গাজায় একটি ভবন দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের প্রশ্ন, তীব্র সমালোচনা
ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর হারমান সিং কাপুর সম্প্রতি গাজার ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উপহাস করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই ভারতীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। যেখানে কাপুর একটি ফোন উঁচিয়ে ধরে আছেন যাতে লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত একটি কাঠামোর আকাশ থেকে তোলা ছবি দেখা যাচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, এখন আমি বিবি (নেতানিয়াহু) এবং ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সকে জিজ্ঞেস করছি... গাজায় এই ভবনটি কেন এখনো দাঁড়িয়ে আছে?” ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি যখন জানতে চান তিনি কোন ভবনটির কথা বলছেন, তখন কাপুর সেটির দিকে আঙুল দেখিয়ে উত্তর দেন, এই ভবনটি। ধারণকারী মন্তব্য করেন যে মনে হচ্ছে ওটাই একমাত্র টিকে থাকা ভবন; জবাবে কাপুর বলেন, “হ্যাঁ, কেন?
ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই গাজাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে কাপুরের এমন মন্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন । ব্যবহারকারীরা এও উল্লেখ করেন যে, তার এই মন্তব্য বৃহত্তর শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।
UK-based content creator Harman Singh Kapoor sparked backlash after questioning why a building in Gaza remained standing. The building was identified as Al-Qadisiyyah Girls School, reportedly being used as an Israeli military base. Kapoor is known for pro-Israel and anti-Muslim… pic.twitter.com/d6sopO2tH8
— The Siasat Daily (@TheSiasatDaily) October 1, 2026
এর আগে, ৩০ সেপ্টেম্বর আরেকটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ওই পোস্টে কাপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার আরেকটি আকাশ-চিত্র শেয়ার করেন, যেখানে একটি অংশ লাল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত ছিল। তিনি লেখেন: “কুলাঙ্গার ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীদের মতে, ভবন ধ্বংস করাকেই নাকি গণহত্যা বলা হয়।”
পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত ভাষা ও উপস্থাপনার বিপরীতে নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে।
এরই মধ্যে, গুগল ম্যাপসের হালনাগাদ স্যাটেলাইট চিত্রে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রাফাহ, খান ইউনিস এবং গাজা সিটি—সব জায়গাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান; একসময়ের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্য দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে এবং অনেক ভবনই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাফাহর তাল আল-সুলতানের ‘সৌদি নেইবারহুড’ এলাকায় শত শত ইউনিটের একটি আবাসন প্রকল্প প্রায় পুরোপুরি মাটির সাথে মিশে গেছে বলে মনে হচ্ছে, আর ‘সুইডিশ ভিলেজ’ এলাকায় হাতেগোনা কয়েকটি কাঠামো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
সূত্র: মুসলিম মিরর, সিয়াসাত ডেইলি
এমএমআর