তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হুগো শর্টারকে বৃহস্পতিবার তলব করেছে ইরান। মার্কিন বাহিনীর ব্যবহৃত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ‘আরএএফ ফেয়ারফোর্ড-কে লক্ষ্য করে কথিত নাশকতার পরিকল্পনার সাথে ইরানকে জড়ানোর অভিযোগের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী (রাজনৈতিক বিষয়) মাজিদ তাখত-রাভাঞ্চি সরকারের ‘ধ্বংসাত্মক মনোভাব’-এর বিরুদ্ধে তেহরানের ‘কঠোর প্রতিবাদ জানান। তাখত-রাভাঞ্চি ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ইরানকে জড়ানোর ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের দাবিকে ‘মিথ্যা ও হাস্যকর’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে আইআরআইবি-র তথ্যমতে, তিনি দাবি জানান যে ব্রিটিশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে এবং ইরানের প্রতি তাদের ‘অনুচিত মনোভাব সংশোধন’ করতে হবে।
বুধবার বার্নহাম বলেন, ফেয়ারফোর্ডের কাছে সন্দেহভাজন ওই ষড়যন্ত্রে ইরানের ভূমিকা থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘটনাটি এখনো ‘জটিল ও অত্যন্ত গুরুতর’ পুলিশি তদন্তের বিষয়।
এর আগে সোমবার ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নাকচ করে লন্ডনে ইরানি দূতাবাস। এক বিবৃতিতে দূতাবাসটি জানায়, কয়েকজন ব্রিটিশ ব্যক্তি ও গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে ইরানের যোগসূত্র তৈরির চেষ্টা করছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার জানিয়েছিলেন, সন্দেহভাজন ষড়যন্ত্রের পেছনে ‘বিদেশি কোনো পক্ষের হাত’ রয়েছে। তবে কোন দেশ জড়িত বলে তিনি মনে করছেন, তা উল্লেখ করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে সহায়তা করে আসছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান বৃহত্তর সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘাঁটিটিকে ঘিরে নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে জুলাইয়ে ব্রিটেন জানিয়েছিল, ইরানের পাল্টা হামলার সম্ভাবনা দেখা দিলে তা মোকাবিলায় তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ফেয়ারফোর্ড থেকে পরিচালিত মার্কিন বোমারু বিমান নিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সতর্কবার্তার পর ঘাঁটিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো বাড়ানো হয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএমআর