হোম > বিশ্ব

নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোট যে ৫ নীতিতে একমত

ইসরাইলে নির্বাচন

আমার দেশ অনলাইন

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ চললেও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত মৌলিক নীতিগুলোর ক্ষেত্রে দুজনের অবস্থানে রয়েছে গভীর সাদৃশ্য। দল দুটির মতাদর্শিক অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন হলেও ফিলিস্তিন সংকট, হামাস নির্মূল, ইরান নীতি এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তি নেতানিয়াহুর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভক্ত হলেও যেসব মৌলিক নীতিতে দুই নেতার মধ্যে পূর্ণ মতৈক্য রয়েছে:

১. আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি

নির্বাচনোত্তর সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে পার্লামেন্টের আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, আরব আইনপ্রণেতাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট উভয়ই। নেতানিয়াহু দাবি করেন, আরবদের সমর্থনে গঠিত সরকার জাতীয় বৈধতা হারাবে; অন্যদিকে আইজেনকোটও নির্বাচনি প্রচারণায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার চালাবেন না।

২. ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা (দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নাকচ)

আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ থাকলেও নেতানিয়াহুর মতোই ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী আইজেনকোট। আইজেনকোট ইসরাইলের ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানভিত্তিক পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে প্রকাশ্যে অভিহিত করেছেন। ফলে নেতানিয়াহুর পতন হলেও ফিলিস্তিনের স্বাধিকার প্রশ্নে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

৩. হামাস নির্মূল ও গাজায় সামরিক আধিপত্য

গাজায় সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রে আইজেনকোট কোনোভাবেই নমনীয় নন। ২০০৮ সালে বৈরুতে বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আক্রমণাত্মক ‘দাহিয়াহ ডকট্রিন’-এর অন্যতম রূপকার ছিলেন এই সাবেক সেনাপ্রধান। গাজায় হামাসের শাসন পুরোপুরি নির্মূল করতে নেতানিয়াহুর মতোই কঠোর সামরিক অভিযানের পক্ষে তিনি। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ কথা বলছেন, আর আইজেনকোটের দাবি—আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজা থেকে হামাসের কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ নিঃশেষ করতে হবে।

৪. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখে দেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রধান হুমকি হিসেবে ইরানকে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট সম্পূর্ণ একমত। ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান নেতানিয়াহুর নীতিমালারই হুবহু প্রতিফলন।

৫. জায়নবাদী অগ্রাধিকার ও লেবানন নীতি

উভয় নেতাই ইসরাইলকে কঠোর ‘জায়নবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চরম সামরিক বলপ্রয়োগের নীতিতে আইজেনকোট ও নেতানিয়াহুর কোনো মতপার্থক্য নেই।

বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তেল আবিবের ক্ষমতার মুখ হয়তো বদলাতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ঘিরে ইসরাইলের আগ্রাসী মৌলিক নিরাপত্তা নীতিগুলো অপরিবর্তিতই থাকবে।

ইসরাইলের নির্বাচনে মুসলিম দলগুলোর আকাশচুম্বী সাফল্য, কেন বাড়ছে গুরুত্ব

নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসন ৫৪, বিরোধীদের ৪৯, আরব দলগুলোর ১৯

স্পেনে দ্রুতগামী দুই ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ১০

‘আমরা পুড়লে তোমরাও পুড়বে’, ইউরোপজুড়ে জেন-জিদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

এই বয়সে বিশ্রাম নেওয়াই ভালো, মমতাকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত ৯ সন্ত্রাসী নিহত

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে কী ঘটতে পারে

ইসরাইলের ক্ষমতার চাবিকাঠি কি মনসুর আব্বাস ও ইউসুফ জাবারিনের হাতে

ভারত-চীন সীমান্তে ফের উত্তেজনা, মোদির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

ইসরাইলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর চমক