জাতিসংঘের সতর্কতা
একবিংশ শতাব্দীতেই পৃথিবীর কোনো কোনো দেশে ভয়াবহ পানি সংকট চলছে। ইরানের রাজধানী তেহরান, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এরই মধ্যে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পানির। এছাড়া আফ্রিকার অনেক দেশেই বহুদিন ধরে চলছে তীব্র পানি সংকট। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে এশিয়ার অনেক দেশে সুপেয় পানির উৎস নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পানি সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জীবনের অপর নাম পানি হলেও বিশ্ব এখন ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংকরাপ্সি’ বা ‘বৈশ্বিক পানি দেউলিয়াত্বের’ যুগে প্রবেশ করেছে। এ পরিস্থিতি কোটি কোটি মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। জাতিসংঘের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন সতর্কবার্তাই দেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘের ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের গবেষকদের করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেউলিয়া’ মানে পৃথিবীর সুপেয় পানির ভাণ্ডার, যেমন নদী, হ্রদ ও জলাধার বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে এগুলো দ্রুত হারে ধ্বংস হচ্ছে। জলবায়ু সংকট হিমবাহ গলে সমস্যাটিকে আরো বাড়িয়ে তুলছে, যা পানি মজুত কমিয়েছে এবং কোথাও কোথাও চরম খরা ও অতিবৃষ্টির মতো দুর্যোগ বাড়িয়েছে।
এর গবেষক অধ্যাপক কাভেহ মাদানি বলেন, অনেক অঞ্চলে মানুষের তৈরি পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই সংকট-পরবর্তী বিপর্যয় অবস্থায় পৌঁছেছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পানি ব্যবস্থা এরই মধ্যে দেউলিয়া হয়ে গেছে। তবে কবে নাগাদ পুরো ব্যবস্থাটি ধসে পড়বেÑতা কেউই জানে না।
প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বের ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বাস করে, যেগুলোতে পানি অনিরাপদ কিংবা মারাত্মকভাবে অনিরাপদ। প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এমন অঞ্চলে বসবাস করছে, যেখানে ভূগর্ভস্থ পানিস্তর এমনটাই নিচে নেমেছে যে, ভূমি দেবে যাচ্ছে।