কাতার নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপের পর আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের অবস্থানে হামলা চালানো পরিকল্পনা থেকে সড়ে এসেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে এমনটি জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দার।
দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের সংবাদে এসেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বক্তৃতায় দার দাবি করেছেন, আফগানিস্তানের শাসকরা ইসলামাবাদের সংযমকে অক্ষমতা হিসেবে ভুল বুঝেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে কিন্তু তারা একটি ভ্রাতৃপ্রতিম দেশকে ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পছন্দ করবে না।
তিনি আরো বলেছেন,‘দুই দেশের পরিস্থিতি যখন সংঘাতের পৌঁছেছিল, তখন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আমাদের সাথে ঘণ্টায় ঘণ্টায় যোগাযোগ করছিল। এমনকি, কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে প্রতি ঘণ্টায় ফোন করছিলেন।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের গতিশীল পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে পেরে আমাদেরকে থামার অনুরোধ করেছে, তারা জানিয়েছে, কাতার মধ্যস্থতা করবে, দায়িত্ব নেবে এবং সমস্যার সমাধান করবে।’
দার তার অবস্থান সমর্থন করার জন্য তার দেশের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ওই রাতে যে অভিযানটি হওয়ার কথা ছিল, তা অবশ্যই একটি কঠোর শিক্ষা দিত, তবে তা অবশেষে বন্ধ করা হয়েছে।’
তবে তিনি হতাশ প্রকাশ করে বলেন, কাতার এবং তুরস্কের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আলোচনা থেকে বাস্তব কিছুই বেরিয়ে আসেনি, এমনকি মধ্যস্থতাকারীদেরও তা হতাশ করে তুলেছে।
চার বছর আগে তালেবনরা কাবুল দখলের পর থেকে ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে সম্পর্ক সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে এসেছে। এদিকে পাকিস্তান তার দেশের সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করে আসছে। এ কারণে আফগানিস্তানের সীমান্তে সন্ত্রাসীদের ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, ১১ অক্টোবর পাকিস্তানি বিমান হামলার পর থেকে সমস্ত আনুষ্ঠানিক সীমান্ত ক্রসিং সিল করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য এবং চলাচল বন্ধ রয়েছে।