বেআইনি এবং স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপের অভিযোগে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে গান্ধী জয়ন্তীতে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠন। আর বিক্ষোভ ঠেকাতে সক্রিয় পুলিশ।
বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার দিল্লি পুলিশ পুরো নয়াদিল্লি এলাকায় বিধিনিষেধ জারি এবং যন্তর মন্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানপথও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দিল্লির যন্তর মন্তরে শুক্রবার অবস্থান-বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন ছাত্র, যুব ও নাগরিক সংগঠন। তবে দিল্লি পুলিশ তার অনুমতি দেয়নি। ১৬৩ ধারা জারি করে যন্তর মন্তর চত্বরসহ পুরো নয়াদিল্লিতে পাঁচ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিন মাস আগে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের সময় ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছিল যন্তর মন্তর রোড। বন্ধ করা হয়েছিল সাধারণ যানবাহন চলাচল। শুক্রবার সকালেও একই চিত্র সেখানে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র্যাফ বাহিনী এবং জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে সেখানে।
যদিও এসএফআই সভাপতি আদর্শ এম সাজি এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরা জানিয়েছেন, তারা শুক্রবার যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কোনো রকম জমায়েত, স্লোগান, বক্তৃতা, বিক্ষোভ হলে তখনই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দিল্লির ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে শুক্রবার কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ এবং সংসদ ভবনসংলগ্ন এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার ‘পরামর্শ’ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে যন্তর মন্তরের আশপাশের মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শুক্রবারই মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির ‘জেল ভরো’ আন্দোলন শুরু করছে ককরোচরা। কিন্তু বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। তাদের যুক্তি, বোম্বে হাইকোর্টের ২০১৩ সালের নির্দেশ অনুযায়ী শিবাজি পার্কে সাধারণভাবে কোনো জমায়েত নিষিদ্ধ। যদিও সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, মুম্বাইয়ে আন্দোলন তারা করবেনই।
পরবর্তী পর্যায়ে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবিতে কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় পালিত হবে ‘জেল ভরো’ কর্মসূচি। দীপকে জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষে তারা ফের দিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্দোলনে নামবেন। জ্ঞানেশের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে।
বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও শুক্রবার থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ কর্মসূচি শুরু করছে। ৮ অক্টোবর জেলা পর্যায়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ পদযাত্রা এবং জেলা শাসকদের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৬ অক্টোবর সমস্ত বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ