যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিলিস্তিনিদের ইসরাইলে বিতাড়িত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রাইভেট বিমানে করে তাদের ইসরাইলে পাঠানো হয়। বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, আয়ারল্যান্ড ও বুলগেরিয়ায় জ্বালানি নেয়। এই ফ্লাইটের প্রতিঘণ্টায় ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার ডলার। ইসরাইল থেকে তাদের ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে সড়কের পাশে ফেলে আসা হয়।
প্লাস ৯৭২ ম্যাগাজিনের সহযোগিতায় দ্য গার্ডিয়ান এ সপ্তাহে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর আগে এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন করে মিন্টপ্রেস। গত ২১ জানুয়ারি প্রথম ফ্লাইটে আট ফিলিস্তিনিকে অ্যারিজোনা থেকে তেল আবিবে পাঠানো হয়। আর দ্বিতীয় ফ্লাইটটি যায় গত সোমবার। তবে সেই ফ্লাইটে ঠিক কতজনকে পাঠানো হয়েছে, সেটি স্পষ্ট নয়। তবে বিলাসবহুল ওই বিমানে আসন মাত্র ১৬টি। ট্রাম্প প্রশাসন কাউকে নির্বাসন বা বিতাড়নের সময় সাধারণত বাণিজ্যিক বিমান ব্যবহার করলেও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ফ্লাইট দুটি পরিচালনা করে রিয়েল স্টেট কোম্পানি ডেজের ডেভেলপমেন্ট। এটির প্রতিষ্ঠাতা ইসরাইলি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক মাইকেল ডেজের। বর্তমানে ফ্লোরিডায় এই কোম্পানিটি পরিচালনা করছেন তার ছেলে জিল ডেজের।
এ বিষয়ে ডেজের বলেন, তার বিমানে কারা গেছেন, সে বিষয়ে তারিখ ছাড়া তাকে কিছুই জানানো হয়নি। ফ্লোরিডাভিত্তিক কোম্পানি জার্নি অ্যাভিয়েশনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন এটি ভাড়া করেছিল।
ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই ডেজের। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় ১০ লাখ ডলারের বেশি তার তহবিলে দান করেছিলেন তিনি।
মিডল ইস্ট আই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তর লিখিত বক্তব্যে জানায়, দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী আন্তঃসংস্থা আলাপ ও ব্যক্তিগত কূটনীতির বিষয়ে আমরা আলোচনা করি না। সাধারণ নীতি হিসেবে অবৈধ বিদেশিদের বিতাড়নে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।