বিশ্ববাজারে শুক্রবার স্বর্ণের দাম প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও চলতি সপ্তাহে মূল্যবান এ ধাতুটির দর ২ শতাংশের বেশি কমেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদহার স্বর্ণের দামে চাপ তৈরি করেছে।
ফলে টানা দ্বিতীয় সপ্তাহের মতো দরপতনের ধারায় রয়েছে স্বর্ণ। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্য দিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার নির্ধারণের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে তারা ধারণা পেতে চাইছেন।
শুক্রবার ০৪১৯ জিএমটি পর্যন্ত স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এ সময় প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৪ হাজার ১৮৪ দশমিক ৪৫ ডলার। চলতি সপ্তাহের হিসাবে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে ২ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪ হাজার ২১৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন ডলার চলতি সপ্তাহে মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে। এতে অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেন করা ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার ১০ ও ৩০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।
ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, বাজারের অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশা এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থানের তথ্য সুদের হার নিয়ে প্রত্যাশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। তথ্য শক্তিশালী হলে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা স্বর্ণের দামের ওপর আরও চাপ তৈরি করতে পারে।