যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার আশা করছেন তারা। ক্ষমতা পেলে কীভাবে তা কাজে লাগানো হবে, এখন সেই পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন দলটির নেতারা। তাদের লক্ষ্য, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিত্যপণ্য ও জ্বালানির দাম কমানো, স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি সহায়তা ফিরিয়ে আনা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
ডেমোক্র্যাটরা কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের জন্য রিপাবলিকানদের ব্যর্থ নীতিকে দায়ী করে আসছেন। তারা মুদি পণ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার বাড়তি ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলছেন। তবে ট্রাম্পকে অভিশংসনের বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেননি। এর আগে তাকে পদ থেকে সরানোর দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল।
নভেম্বরে নির্বাচনে জয় পেলে প্রতিনিধি পরিষদে দ্রুত আইন পাসের উদ্যোগ নিতে চান ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাদের পরিকল্পনা, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন কিছু বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়া, যেগুলো নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যবিমায় ভর্তুকি ও মেডিকেইড কর্মসূচির অর্থায়ন পুনর্বহাল এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের অবসানে পদক্ষেপ।
তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় বাধা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সিনেটে রিপাবলিকানদের আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা থাকার সম্ভাবনা প্রবল। গুরুত্বপূর্ণ আইন এগিয়ে নিতে সেখানে ১০০ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৬০ জনের সমর্থন প্রয়োজন। সিনেটে ফিলিবাস্টার ঠেকানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিট ১৩টি আসন বাড়াতে হবে। আগামী মাসের নির্বাচনে এতগুলো আসন পাওয়ার আশা দলটির সবচেয়ে আশাবাদী নেতারাও করছেন না। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের হাতে থাকবে প্রেসিডেন্টের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা।
কংগ্রেসের নজরদারি কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও বাধা আসতে পারে। অতীতে আইনপ্রণেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ড তদন্তের উদ্যোগ নিলে প্রশাসনের কর্মকর্তারা তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এবারও তারা কংগ্রেসের তদারকির কাছে সহজে নতি স্বীকার করবেন না বলে মনে করছেন ডেমোক্র্যাটরা।
তবু দলটির নেতারা মনে করেন, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং তার কিছু বিতর্কিত নীতি ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাদের আশা, এসব উদ্যোগ ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনৈতিক আলোচনাকেও প্রভাবিত করবে।
হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শাটজ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় আমরা দূরদর্শী প্রগতিশীল আইন পাস করতে পারব না। তবে আপনারা আমাদের ক্ষমতা দিলে কিছু ক্ষেত্রে তার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারব, তাকে ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারব এবং অন্য ক্ষেত্রে তার গতি কমিয়ে দিতে পারব।’
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ডেমোক্র্যাটদের এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথম ১০০ ঘণ্টায় যেসব পদক্ষেপ নিতে চান তারা
ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে দলটির নেতা হাকিম জেফরিস দ্রুত কয়েকটি জনপ্রিয় বিল পাসের উদ্যোগ নেবেন। নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হওয়ার দৌড়ে থাকবেন।
দলীয় নেতাদের সহযোগীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ১০০ ঘণ্টায় জেফরিস যেসব পদক্ষেপ নিতে চান, সেগুলো হলো—
ডেমোক্র্যাট নেতারা মনে করেন, এসব বিষয়ে দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। তাই দীর্ঘ কমিটি-পর্যালোচনা ছাড়াই বিলগুলো সরাসরি প্রতিনিধি পরিষদে তোলা সম্ভব। এমনকি কমিটিগুলো গঠন হওয়ার আগেই এসব বিলের ওপর ভোট হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই বিল পাস করা সম্ভব হওয়ায় সেগুলো পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিনেটে রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা
সিনেটে পরিস্থিতি আরও জটিল। ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রিপাবলিকানরা ফিলিবাস্টারের মাধ্যমে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ আটকে দিতে পারবেন। ফিলিবাস্টার হলো সিনেটে দীর্ঘ আলোচনা বা প্রক্রিয়াগত বাধার মাধ্যমে কোনো বিলের অগ্রগতি ঠেকানোর কৌশল।
তবে ডেমোক্র্যাটদের একাংশ মনে করেন, তাদের প্রস্তাবিত প্রথম দফার বিলগুলো এতটাই জনপ্রিয় যে রিপাবলিকানদের একটি অংশও সেগুলোর পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এতে বিলগুলো সিনেটে পাস হয়ে ট্রাম্পের কাছে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তখন এসব বিলে ভেটো দিলে ট্রাম্পকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে।
উত্তর ক্যারোলাইনার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেবোরা কে রস বলেন, জনমত জরিপে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার খারাপ হলে তিনি শেষ পর্যন্ত পিছু হটেন। আগামী বছরের কর্মসূচি নিয়ে জেফরিসকে পরামর্শ দেওয়া ডেমোক্র্যাটদের একটি অভ্যন্তরীণ কর্মদলের সদস্য রস আরো বলেন, ‘আমরা যদি বিপুল দ্বিদলীয় সমর্থন পাওয়া এবং মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় বিল পাস করি, তাহলে ট্রাম্পকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অতীতে তিনি জনমতের বিরুদ্ধে না যাওয়ার পথই বেছে নিয়েছেন।’
ডেমোক্র্যাট নেতাদের কৌশল নির্ধারণে পরামর্শ দিচ্ছেন কংগ্রেসের সাবেক সদস্য ও হোয়াইট হাউসের সাবেক চিফ অব স্টাফ রাহম ইমানুয়েল। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি।
ইমানুয়েলের মতে, জনপ্রিয় প্রস্তাবের পক্ষে রিপাবলিকানদের সমর্থন পাওয়া গেলে ডেমোক্র্যাটরা রাজনৈতিক আলোচনার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্পকে তখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে—বিলে স্বাক্ষর করলে আমরা জিতব, আর ভেটো দিলেও আমরা জিতব। পুরো কৌশলটাই হলো, কোন বিষয় আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং তাদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে।’
সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতারা মেডিকেইডের অর্থ বরাদ্দ কমানোর সিদ্ধান্ত এবং কর কমানোর আইনের অংশ হিসেবে পুষ্টিসহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁটের বিষয়গুলো উল্টে দেওয়ার সুযোগ দেখছেন। এ ছাড়া আইনপ্রণেতাদের শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত লেনদেন নিষিদ্ধ করার একটি কঠোর আইন পাসের পক্ষেও দুই দলের মধ্যে সমর্থন তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচনি প্রচারেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার ইরান যুদ্ধ বন্ধ করা।
সিনেটর ব্রায়ান শাটজ বলেন, ‘প্রথম লক্ষ্য হলো এই যুদ্ধের অবসান ঘটানো। এর জন্য সাধারণ আমেরিকানদের অনেক বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যুদ্ধ কোনো ফল দিচ্ছে না, আমাদের নিরাপত্তাও বাড়াচ্ছে না। সবাই বিষয়টি জানেন। তাই এটিই আমাদের এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’
যুদ্ধ বন্ধে ঠিক কোন কোন আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে চাননি শাটজ। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যুদ্ধের অর্থায়নে সমর্থন না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধ বন্ধ করতে কংগ্রেসের হাতে থাকা সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ারগুলোর একটি হলো এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তে জোর
আইন পাসের ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তদন্ত ও নজরদারির ক্ষমতা জোরালোভাবে প্রয়োগ করতে চান ডেমোক্র্যাটরা।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের শেষ পর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানকে তারা অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরছেন। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের দুর্নীতির কারণে সাধারণ ভোটারদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।
মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জেমি রাসকিন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি আমাদের উদ্যোগগুলোতে ভেটো দেন, তাহলে এর মধ্যে আমরা প্রশাসনের দুর্নীতির দিকে পুরোপুরি মনোযোগ দেব। এই প্রশাসনের প্রকৃত অঙ্গীকারই হলো দুর্নীতি।’
ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে আগামী বছর রাসকিন প্রতিনিধি পরিষদের বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে থাকবেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্তের প্রথম লক্ষ্যগুলো কী হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলতে চাননি তিনি। তবে কয়েকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্রের কথা জানিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্পকে ঘিরে গড়ে ওঠা ক্ষমা প্রদানের ব্যবসা, সরকারি চুক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্নীতি এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে ট্রাম্প পরিবার ও সরকারের কাছে বেনামি অর্থপ্রবাহ।
রাসকিনের আশঙ্কা, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসের সমন বা আনুষ্ঠানিক তলব উপেক্ষা করতে পারেন। এ কারণে তিনি তথ্যদাতা বা হুইসেলব্লোয়ার, সরকারি চুক্তি নিয়ে চাপ প্রয়োগের শিকার হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন গোপন তহবিল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়, এমন তথ্যসূত্রও কাজে লাগাতে চান তিনি।
অভিশংসন নিয়ে দলের ভেতরেই মতভেদ
ট্রাম্প কিংবা তার মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হতে পারে। দলটির নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার অভিযোগ তুলেছেন। তবে অভিশংসনের প্রশ্নে তারা এখনো সতর্ক।
এর আগে ট্রাম্পকে দুইবার অভিশংসনের উদ্যোগ নিয়েও তাকে পদ থেকে সরানো যায়নি। বরং এসব উদ্যোগ তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন ডেমোক্র্যাটদের একাংশ।
তাদের আশঙ্কা, অভিশংসনের উদ্যোগকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলে ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে তিনি আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেন।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জেফরিস বারবার বলেছেন, ‘আমরা কোনো কিছুকে আগেভাগে বিবেচনার বাইরে রাখিনি, আবার কোনো কিছুকে চূড়ান্তভাবে বিবেচনার মধ্যেও রাখিনি।’
তবে অভিশংসনের পক্ষে দলটির ভোটারদের একটি বড় অংশের চাপ রয়েছে। ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে অভিশংসন করা অথবা তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন।
রাসকিন বলেন, ‘আমরা নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই বুঝেছি, অভিশংসন সব সমস্যার সমাধান নয়।’
তার মতে, ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে পদ থেকে সরাতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সেই সমর্থন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ভোটের হিসাব সম্পর্কে আমরা বাস্তববাদী।’
প্রথম ১০০ দিনে করছাড়, আইসিইর ক্ষমতা ও শেয়ার লেনদেন নিয়ে পরিকল্পনা
প্রথম ১০০ ঘণ্টার উদ্যোগের বাইরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা কোন কোন নীতি বাস্তবায়ন করবেন, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত ঐকমত্য হয়নি। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) জবাবদিহি বাড়ানো, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং কংগ্রেস সদস্যদের শেয়ারবাজারে ব্যক্তিগত লেনদেন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেফরিস বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে করব্যবহারেও পরিবর্তন আনতে চান তারা। সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্বল্প আয়ের মানুষের আবাসনসংক্রান্ত করছাড় বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিশু করছাড় ও কর্মজীবী স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য অর্জিত আয়ভিত্তিক করছাড় বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এসব করছাড়ের মধ্যে কিছু ফেরতযোগ্য। অর্থাৎ, যাদের আয় এত কম যে তাদের আয়কর দিতে হয় না, তারাও নির্দিষ্ট শর্তে করছাড়ের অর্থ পেতে পারেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও ডেমোক্র্যাটদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এটি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি ব্যয় বরাদ্দের বিল ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে পরিবর্তন আনতে চাপ দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এমন পদক্ষেপে সরকারের অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়ে সরকারি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দলের বিভিন্ন অংশ নিজেদের অগ্রাধিকার অনুযায়ী আগামী দিনের কর্মসূচি সাজাতে চাইছে।
টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও প্রতিনিধি পরিষদের প্রগতিশীল ককাসের চেয়ারম্যান গ্রেগ কাসার বলেন, ‘আমাদের প্রথম সপ্তাহে বেতনসহ অসুস্থতাজনিত ছুটির আইন পাস করা উচিত। পরের সপ্তাহে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, তার পরের সপ্তাহে পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য ছুটি এবং তার পরের সপ্তাহে অবকাশের ছুটির আইন পাস করা উচিত। আমি চাই, আমরা যেন একের পর এক অনেক আইন পাস করি।’
সব মিলিয়ে, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটদের সামনে দুটি বড় লক্ষ্য থাকবে—ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন। তবে সিনেটে ভোটের সমীকরণ, প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং দলের ভেতরের মতপার্থক্য তাদের পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ধারণ করবে।
এএম