পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে একটি নৌযানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শুক্রবার চালানো এ হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং একজন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন বলে জানানো হয়। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক এই হামলা গত কয়েক মাস ধরে চলা একই ধরনের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮৯ জন নিহত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং একজন বেঁচে গেছেন। তবে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাতে ইউএস কোস্ট গার্ডকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানায় তারা।
আগের হামলাগুলোর মতো এবারও সাউথকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া নৌযানটি ‘সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত একটি সংগঠন’ পরিচালনা করছিল। এছাড়া গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, নৌযানটি পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচল করছিল।
এক্সে প্রকাশিত পোস্টের সঙ্গে একটি সাদা-কালো ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, পানিতে চলমান একটি ছোট নৌকা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয়ে যায়। পরে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে কথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তারা লাতিন আমেরিকাভিত্তিক তথাকথিত ‘মাদকসন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছে।
তবে যেসব নৌযানে হামলা চালানো হচ্ছে, সেগুলো সত্যিই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কি না— এমন কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণে অভিযানের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শুক্রবারের হামলাটি এক মাসের মধ্যে নবম হামলা।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল হতে পারে। কারণ এতে এমন সব বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নয়।
এসআর