মিশিগানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সায়েদকে নিয়ে প্রকাশিত একটি বিতর্কিত প্রতিবেদনের শিরোনাম পরিবর্তনে সিবিএস নিউজের প্রধান সম্পাদক বারি ওয়েইস সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমবিষয়ক নিউজলেটার ‘স্ট্যাটাস’-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।
সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনটি আল-সায়েদের কয়েকটি মুছে ফেলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত হয়। এসব পোস্টে তিনি ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। স্ট্যাটাসের বরাতে বলা হয়েছে, ওয়েইস নিজেই প্রতিবেদনের শিরোনাম পরিবর্তন করে সেখানে ৯/১১ হামলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। পরে একটি সম্পাদকীয় বৈঠকে তিনি প্রতিবেদনের লেখককে প্রশংসাও করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রকাশিত শিরোনামে বলা হয়, ‘মিশিগানের ডেমোক্র্যাট আবদুল আল-সায়েদের ৯/১১ হামলা নিয়ে মুছে দেওয়া পোস্ট অতীতের মন্তব্য নিয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি করেছে।’ এর আগে প্রস্তাবিত শিরোনামে ৯/১১-এর সরাসরি উল্লেখ ছিল না বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়। কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার অভিযোগ করেন, একজন মুসলিম প্রার্থীর সঙ্গে ৯/১১ হামলার প্রসঙ্গকে শিরোনামে জুড়ে দেওয়া পক্ষপাতদুষ্ট এবং ইসলামবিদ্বেষী উপস্থাপনার শামিল। কেউ কেউ এটিকে বর্ণবাদী বলেও সমালোচনা করেছেন।
সিবিএসের প্রতিবেদনে আলোচিত একটি পোস্ট ২০২০ সালের। ওই পোস্টে এল-সায়েদ ৯/১১ হামলায় নিহত প্রায় ৩ হাজার মানুষের সঙ্গে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনা করেছিলেন। তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল জনস্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তা। তিনি পরে ওই পোস্ট মুছে দেন।
আল-সায়েদ বর্তমানে মিশিগান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচনের জন্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থী। দলীয় প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর তিনি নানা বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার হাসান পাইকার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। তবে আল-সায়েদ এসব অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি মিশিগানের ইহুদি ডেমোক্রেটিক ককাসের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মার্চে ডেট্রয়েটের উপকণ্ঠে টেম্পল ইসরাইল সিনাগগে হামলার পর এল-সায়েদের একটি বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক হয়। হামলাকারীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেছিলেন, ‘আহত মানুষ অন্য মানুষকে আঘাত করে।’ সমালোচকেরা এটিকে হামলার যৌক্তিকতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখলেও আল-সায়েদ পরে বলেন, তিনি হামলার পক্ষে সাফাই দেননি; বরং ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে চেয়েছিলেন এবং ওই সময় এমন ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক হয়নি।
বারি ওয়েইসের বিরুদ্ধে সিবিএসের সংবাদকর্মীদের সম্পাদকীয় কাজে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে নেটওয়ার্কের কয়েকজন সাংবাদিক ও কর্মী তাঁর সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। ওয়েইস এসব অভিযোগের জবাবে বলেছেন, সিবিএসের লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের হয়ে কাজ করা নয়; বরং ব্যাপক, ন্যায্য ও সঠিক সংবাদ পরিবেশন করা।
এদিকে সিবিএস ও এর মূল প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টের কাছে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট মন্তব্য চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওয়েইস ব্যক্তিগতভাবে শিরোনাম পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন—এই অভিযোগ এখনো মূলত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করছে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে আল-সায়েদকে নিয়ে বিতর্কটি আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এবারের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত। ফলে প্রার্থীর পুরোনো বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং গণমাধ্যমে সেগুলোর উপস্থাপন—সবকিছুই নির্বাচনী প্রচারে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: আরব নিউজ, এপি নিউজ ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট