যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল কংগ্রেসে আসন হারালে তার নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হতে পারে। এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা, ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি এবং চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা—এই তিন বিষয় নিয়ে এ অঞ্চলের দেশগুলোর উদ্বেগ রয়েছে।
তবে কংগ্রেসে ট্রাম্পের দলের নিয়ন্ত্রণ কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তানীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এশিয়ার দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব নির্ভর করবে কংগ্রেসের নজরদারি, বাণিজ্যনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থানের ওপর।
কুয়ালালামপুর থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতি ইতিমধ্যে চাপে পড়েছে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ এবং সম্ভব হলে উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ কমলেও ট্রাম্পের নীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে—এমনটা মনে করছেন না বিশ্লেষকেরা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এপ্যাক অ্যাডভাইজার্সের প্রধান নির্বাহী ও বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ স্টিভেন ওকুন বলেন, এশিয়ার সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে তার মতে, বিষয়টি অনেকটা ‘রাজনৈতিক নাটকীয়তা’।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল। জানুয়ারিতে সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর যে তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হতো, তার বড় অংশই এ অঞ্চলের দেশগুলো আমদানি করত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিলে এসব দেশ জ্বালানি সংকটে পড়ে।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে নিজেদের অপরিশোধিত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আমদানি করে ফিলিপাইন। জ্বালানির সরবরাহে সংকট ও দাম বেড়ে যাওয়ায় গত মার্চ থেকে দেশটিতে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা চলছে। সিঙ্গাপুরের ইনস্টিটিউট অব সাউথইস্ট এশিয়ান স্টাডিজের (আইএসইএএস)-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও পূর্ব তিমুরের মতো অঞ্চলের দরিদ্র অর্থনীতিগুলোর বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমেছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমাতে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম সরকার বিপুল অর্থ ভর্তুকি হিসেবে ব্যয় করেছে।
এ অঞ্চলের জনমত ইরান যুদ্ধের বিপক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পকে বাধ্য করা কঠিন হবে বলে মনে করেন ওকুন। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস এলেও ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে বড় কোনো পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে যুদ্ধ নিয়ে তদন্ত ও কংগ্রেসের তদারকি শুনানি হতে পারে। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসনের উদ্যোগও দেখা যেতে পারে। কিন্তু তাতে যুদ্ধের সামগ্রিক প্রভাব বদলাবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। তবে ট্রাম্প ইরানে হামলাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সংঘাত থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস হলেও তা উপেক্ষা করেছেন তিনি। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস সামরিক অভিযান সীমিত করা বা এর অর্থায়ন বন্ধে আইন পাস করতে পারে। তবে ট্রাম্প তাতে ভেটো দিতে পারবেন। সেই ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটরা সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
শুল্কনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম
বাণিজ্য ও শুল্কনীতির ক্ষেত্রেও ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ কংগ্রেসের খুব বেশি নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ৯০টি দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এতে এশিয়ার দেশগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যে ৪৬ শতাংশ এবং মিয়ানমারের পণ্যে ৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্ক বাতিল করেন। এরপর বিকল্প পথে এগোয় ট্রাম্প প্রশাসন। গত জুলাইয়ে জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যে ১০ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এশিয়ার মধ্যে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এ তালিকায় রয়েছে।
ওকুনের মতে, নতুন কংগ্রেস গঠিত হলেও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বাণিজ্যনীতিতে তেমন প্রভাব পড়বে না।
তার ভাষায়, কংগ্রেস শুল্কনীতি বদলাতে পারবে না। শুল্ক বা যুদ্ধ—কোনোটিরই পরিবর্তন হবে না।
তবে এ বিষয়ে কিছুটা আশার জায়গা দেখছেন সিঙ্গাপুরের আইএসইএএস-ইউসুফ ইসহাক ইনস্টিটিউটের ভিজিটিং ফেলো স্টিফেন ওলসন। সম্প্রতি এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী রায় এলে রিপাবলিকান পার্টির মুক্তবাণিজ্যপন্থী অংশ আরো সক্রিয় হতে পারে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় এই অংশের অনেকেই চাপের মুখে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে গিয়েছিলেন।
ওলসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এটি আশার একটি ক্ষীণ আলো। ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস এলে তারা এ অঞ্চলের রপ্তানিকারকদের জন্য শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা করতে চাপ দিতে পারে। এতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তনের জন্য ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ
এশিয়ার দেশগুলোর প্রত্যাশা শুধু বাণিজ্যনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও আঞ্চলিক উপস্থিতি নিয়েও তাদের উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কুরলানজিক বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে এশিয়ার প্রায় সব দেশই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন দেখতে চায়। তবে এ অঞ্চলের অনেকেই মনে করে, বাস্তবে তেমন পরিবর্তন আসবে না।
কুরলানজিকের মতে, বাণিজ্য ও শুল্কনীতিতে আরো স্থিতিশীলতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও চায় এশিয়ার দেশগুলো। দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের আরো স্পষ্ট ও দৃশ্যমান উপস্থিতি তাদের প্রত্যাশা। ওই সাগরে চীনের দাবির সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পাঁচটি দেশের দাবির বিরোধ রয়েছে। তাইওয়ান প্রণালিতেও যুক্তরাষ্ট্রের আরো দৃশ্যমান ভূমিকা চায় তারা। এই প্রণালি চীন ও স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানকে পৃথক করেছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে।
এশিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও নির্বাচনের ফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। রিপাবলিকানরা বড় ধরনের আসন হারালে কংগ্রেসে ট্রাম্পের বিরোধিতা করতে দলটির সদস্যদের আগ্রহ বাড়ে কি না, তা তারা দেখতে চাইবে। কুরলানজিক বলেন, এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্ক, বাণিজ্যনীতি, অস্ত্র বিক্রি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চীনের প্রযুক্তি খাতে কঠোরতা বাড়তে পারে
চীনের প্রযুক্তি খাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ওকুনের ধারণা, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে দলের হাতেই থাকুক, চীনের বিরুদ্ধে আরো কঠোর প্রযুক্তি বিধিনিষেধ পাস হবে। এ বিষয়ে দুই দলের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রিমোট অ্যাকসেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট’। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য, সফটওয়্যার বা প্রযুক্তিতে দূর থেকে প্রবেশের ক্ষেত্রেও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে। ‘চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর আওতায় উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ অনুমোদিত স্থানে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্য করা হবে। এর উদ্দেশ্য, এসব চিপ যেন বিদেশি প্রতিপক্ষের হাতে না পড়ে।
এ ছাড়া ‘মাল্টিল্যাটারাল অ্যালাইনমেন্ট অব টেকনোলজি কন্ট্রোলস অন হার্ডওয়্যার অ্যাক্ট’ বা ‘ম্যাচ অ্যাক্ট’ রয়েছে। এর মাধ্যমে চিপ তৈরির সরঞ্জাম রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে ওয়াশিংটনের নীতির সামঞ্জস্য আনার চেষ্টা করা হবে। এতে চীনের হাতে উন্নত চিপ তৈরির প্রযুক্তি পৌঁছানো কঠিন হবে।
ওকুন বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল যা-ই হোক, পরবর্তী কংগ্রেস এসব আইন পাস করবে। কারণ, দুই দলই এ বিষয়ে একমত।
তার মতে, বর্তমানে চীনের বিষয়ে সবচেয়ে কম কঠোর অবস্থানে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ কথা বলেন।
গত বছর তীব্র ও ব্যয়বহুল বাণিজ্যযুদ্ধের পর দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা এসেছে। চলতি বছর ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে দুইবার বৈঠক হয়েছে। বাণিজ্যসংক্রান্ত ভঙ্গুর সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে তাইওয়ানের কাছে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্রস্তাবও এখনো অনুমোদন করেননি ট্রাম্প। এই প্যাকেজ অনুমোদিত হলে তা তাইপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির চুক্তি হবে।
তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের ভেতরে চাপে থাকা ট্রাম্প পররাষ্ট্রনীতিতে আরো বেশি মনোযোগী হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। ইন্দোনেশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক জেমস গিল্ড বলেন, ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিতে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে।
গিল্ডের মতে, কংগ্রেসের প্রচলিত তদারকি ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাম্পকে কার্যকরভাবে বিরোধিতা করা ও জবাবদিহির আওতায় আনতে ডেমোক্র্যাটদের অতীত রেকর্ড ভালো নয়। এবার তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে কি না, তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে।
এএম