ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, এই যুদ্ধে মার্কিন জনগণের সমর্থন অর্ধেকেরও কম।
অনেক জরিপে সমর্থনের হার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মার্কিন জনসমর্থনের সমপর্যায়ের কাছাকাছি।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের অসন্তোষও বাড়ছে। বর্তমানে দেশটির অনেক এলাকায় প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৪ ডলার ৫০ সেন্ট ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায়, যেখানে অধিকাংশ তেল আমদানি করতে হয়, সেখানে প্রতি গ্যালনের দাম ৬ ডলারের বেশি পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে এবং তা রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমি এখন আমেরিকানদের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে ভাবছি না, আমি ভাবছি ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র না পায়।”
এই মন্তব্যটি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে বারবার প্রচারিত হয়েছে এবং আর্থিক চাপের মধ্যে থাকা বহু মার্কিন নাগরিকের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসআর