গাজা পুনর্গঠনে
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা পুনর্গঠনে কয়েক বিলিয়ন ডলার বাজেটের পরিকল্পনার বিষয়ে বিবেচনা করছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘের ম্যান্ডেটে গাজায় স্থিতিশীল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে বিস্তারিত বিষয় উত্থাপনের চিন্তাও করছেন তিনি। ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে শান্তি পর্ষদের (বোর্ড অব পিস) বৈঠকে তিনি এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন বলে বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকে ২০ দেশের সরকারপ্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এর আগে গত মাসে সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে শান্তি পর্ষদের সনদ প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
শান্তি পর্ষদে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, তুরস্ক, পাকিস্তান, আজারবাইজান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ সদস্য হিসেবে রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প গাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থিতিশীল বাহিনীর জন্য বিভিন্ন দেশের প্রতিশ্রুত সেনা সংখ্যার ঘোষণা দেবেন।
এদিকে মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা গাজায় আট হাজার সেনা পাঠাবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তোর সঙ্গে সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাকের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি, যদি কোনো চুক্তি সম্ভব হয় এবং শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে পারি।’
এর মধ্যে গাজা পুনর্গঠনে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করতে চাচ্ছেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ডাভোসে গাজা পুনর্গঠন নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। যদিও তিনি ট্রাম্প প্রশাসনে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই কিন্তু ইসরাইল ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছেন।
গত নভেম্বরে গাজা পুনর্গঠনে সৌদি আরবের কাছে হোয়াইট হাউস যখন অর্থ চেয়েছিল, দেশটির যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান তাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে। অন্যদিকে গাজায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ সহায়তা ও হামাসের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া দেশ কাতারও জানিয়ে দেয়, তারা এক্ষেত্রে অর্থ দেবে না।
ডিসেম্বরে দোহা ফোরামের বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-সানি বলেন, ‘আমরা পুনর্গঠনের জন্য অর্থের এমন কোনো চেকে স্বাক্ষর করতে পারি না, যা আবার অন্যরা ধ্বংস করে দেবে। ইসরাইল পুরো ভূখণ্ড মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।’
ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের বৈঠককে টেস্ট কেস হিসেবে দেখা হচ্ছে যে শান্তিরক্ষী বাহিনী ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি কোনো কাজে আসবে কি না। জাতিসংঘ গত নভেম্বরে গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠানোর বিষয়ে ম্যান্ডেট দেয়। তবে আরব ও মুসলিম দেশগুলো এতে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করছে।
দেশগুলো বলছে, গাজার নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা ও আগ্রাসী ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে এ শান্তিরক্ষীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তাদের সামনে রেখে ইসরাইল দখলদারিত্ব ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকবে বলে শঙ্কা দেশগুলোর।