উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনের সমন্বয়ে একটি যৌথ গোলাবর্ষণ মহড়া চালিয়েছে। দেশটির দাবি, এই মহড়ায় তাদের অস্ত্রব্যবস্থার ‘বিপুল ধ্বংসাত্মক শক্তি’ প্রদর্শিত হয়েছে। সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।
এই মহড়ায় বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র একই সময়ে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্যালিস্টিক ও কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের রকেট লঞ্চার, কামান এবং আক্রমণাত্মক ড্রোন। উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর পাঁচটি ইউনিট এতে অংশ নেয়।
উত্তর কোরিয়ার দাবি, মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল সমন্বিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা এবং একসঙ্গে ব্যাপক গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা অকার্যকর করার সক্ষমতা বাড়ানো। একই সঙ্গে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও যুদ্ধের প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টিও মহড়ায় গুরুত্ব পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জানিয়েছে, মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে কয়েকটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এগুলো প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সমুদ্রের দিকে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর হিসাবে, এ বছর এটি উত্তর কোরিয়ার ১৩তম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা।
উত্তর কোরিয়ার এই মহড়া এমন সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান সম্প্রতি একটি ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া শেষ করেছে। পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখে আসছে।
অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ সম্প্রতি জানিয়েছে, দেশটি ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কমপ্লেক্সে নতুন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং সেখানে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র, কামান ও ড্রোনকে একটি সমন্বিত আক্রমণব্যবস্থার অধীনে পরিচালনার অনুশীলন উত্তর কোরিয়ার প্রচলিত ও কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে রাখার উদ্দেশ্যেও করা হয়ে থাকতে পারে।
সূত্র: আরব নিউজ, রয়টার্স ও এপি নিউজ