উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক সামরিক সক্ষমতা ‘জ্যামিতিক হারে’ (এক্সপোনেনশিয়াল রেট) বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বুধবার জানিয়েছে, কিম একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কারখানা পরিদর্শনকালে এ ঘোষণা দেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, কিম এমন একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বাহিনীকে দ্রুত সম্প্রসারণ করা হবে।
পরিদর্শনের সময় কিম দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে দেশটির অস্ত্রমানের পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যদিও কারখানাটির অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা এটি সম্ভবত ইয়ংবিয়নে নবনির্মিত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র।
উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। দেশটি দাবি করে, তাদের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ‘অপরিবর্তনীয়’ এবং এটি নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার্তা দিতে চায় যে, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার বিষয় নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে এ ধরনের প্রদর্শন কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
উত্তর কোরিয়া স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ইয়াং মু-জিন বলেন, যদি কারখানাটি সত্যিই ইয়ংবিয়নে অবস্থিত হয়, তাহলে এটি কেবল উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, বরং রাজনৈতিক ও প্রচারণামূলক বার্তাও বহন করছে।
অন্যদিকে, কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের বিশ্লেষক হং মিন মনে করেন, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র উন্মোচন করেছে। ফলে এসব অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য আরও বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড উৎপাদনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া ১৯৯৩ সালে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর দেশটি ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে, যার কারণে তাদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের একাধিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার হাতে বর্তমানে কয়েক ডজন পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে।
সূত্র: এএফপি
এসআর