যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর বার্তা দিয়ে সাগরের দিকে দুটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। রোববার দেশটির পূর্ব উপকূলের ওনসান এলাকা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি উৎক্ষেপণ করা হয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী।
দক্ষিণ কোরিয়ার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার এবং দ্বিতীয়টি ৬০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে সাগরে পড়ে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও একটি উত্তর কোরীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় উত্তর কোরিয়াকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোটের ভিত্তিতে উত্তর কোরিয়ার যেকোনো উসকানি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিসর কমিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে কূটনীতি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে কিমের বোন ও দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং বলেন, মহড়ার সময় কমানো হলেও এর ‘উসকানিমূলক ও আগ্রাসী’ চরিত্র বদলায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘প্যাসিফিক ভ্যানগার্ড’ সামরিক মহড়াকেও ‘উন্মত্ত সামরিক পদক্ষেপ’ বলে সমালোচনা করেন কিম ইয়ো জং। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিয়মিত সামরিক মহড়াই কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর প্রধান কারণ।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলন্দাজ ও ড্রোন নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া চালায় উত্তর কোরিয়া। দেশটির সাম্প্রতিক এসব তৎপরতার পাশাপাশি কিম ইয়ো জং বলেছেন, দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও জোরদার করার নীতি অব্যাহত থাকবে।
সূত্র: আরব নিউজ
এমএমআর