দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইনি নাটকীয়তার পর অবশেষে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় শত শত সমর্থক তাকে উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনা জানান। লাল পোশাক পরিহিত সমর্থকদের কণ্ঠে ভেসে ওঠে ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ স্লোগান।
৭৬ বছর বয়সী এই নেতা প্রায় দেড় দশক নির্বাসনে থাকার পর ২০২৩ সালে দেশে ফেরেন। দেশে ফিরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত মামলায় দণ্ডিত হন তিনি। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর আদালতের নির্দেশে তাকে কয়েক মাস কারাভোগ করতে হয়।
কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় থাকসিনকে বেশ প্রাণবন্ত দেখা যায়। সাদা পোশাকে বেরিয়ে আসা এই নেতাকে স্বাগত জানান তার মেয়ে ও রাজনৈতিক উত্তরসূরি পেটংটার্ন শিনাওয়াত্রা। গত আগস্টে আদালতের রায়ের মাধ্যমে পেতংতার্ন প্রধানমন্ত্রীর পদ হারানোর কিছুদিনের মধ্যেই থাকসিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মুক্তির পর প্রতিক্রিয়ায় থাকসিন বলেন, তিনি এখন অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। দীর্ঘদিন জনসম্মুখের বাইরে থাকার প্রসঙ্গ টেনে রসিকতা করে তিনি জানান, যেন তিনি এতদিন ‘ঘুমিয়েই’ ছিলেন।
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে থাকসিনের শক্তিশালী প্রভাব থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে। বিশেষ করে তার সমর্থিত দল ফেউ থাই পার্টি সর্বশেষ নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, থাকসিনের মুক্তি দলটির জন্য নতুন করে রাজনৈতিক গতি তৈরি করতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সামনে তাকে অনেক হিসাব করে এগোতে হবে। নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখলে তা দলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে, যদিও তার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কতদিন নিজেকে আড়ালে রাখতে পারবেন, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকসিনকে পায়ে ইলেকট্রনিক মনিটরিং ডিভাইস পরতে হবে। তার সমর্থকদের দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে তিনি সবসময় কাজ করেছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ও রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে সাজা কমে যাওয়ার পর অবশেষে মুক্ত পরিবেশে ফিরলেন থাইল্যান্ডের অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক নেতা।
সূত্র: রয়টার্স