২০২৫ সাল ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিজ্ঞানীরা এই তথ্য তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করেছেন, আসন্ন শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ, রেকর্ড পরিমাণ দাবানল, হিমবাহের ব্যাপক গলন এবং খরার মতো চরম জলবায়ুগত ঘটনা দেখা গেছে।
ডব্লিউএমও’র তথ্য বলছে, গ্রিনল্যান্ড ও ককেশাসসহ বিবেচনায় নিলে ২০২৫ সালই ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস পর্যবেক্ষণে এই দুই অঞ্চল বাদ দিলে বছরটি দ্বিতীয় বা তৃতীয় উষ্ণতম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবহৃত তথ্যভেদে ইউরোপের প্রায় ৯৯ শতাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কোপারনিকাসের জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবার উপ-পরিচালক সামান্থা বার্জেস বলেন, এটাই প্রথমবার যখন প্রায় পুরো মহাদেশেই গড়ের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা গেছে।
এদিকে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা সতর্ক করেছে যে, চলতি বছর শেষে একটি শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। সংস্থাটির মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, ২০২৪ সাল ছিল রেকর্ড উষ্ণতম বছর, যার পেছনে এল নিনোর বড় ভূমিকা ছিল। এবার আরও শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হতে পারে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের মেট অফিসও জানিয়েছে, আসন্ন এল নিনো সুপার এল নিনোতে রূপ নিতে পারে, যা এই শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপে দাবানলের প্রভাব ছিল নজিরবিহীন। পুড়ে যাওয়া ভূমি ও নির্গত গ্রিনহাউস গ্যাস—উভয় দিক থেকেই এটি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মৌসুম। এছাড়া, ইউরোপের আশপাশের সমুদ্রের তাপমাত্রা টানা চতুর্থ বছরের মতো সর্বোচ্চ ছিল এবং বছরটি ১৯৯০-এর দশকের পর অন্যতম শুষ্ক বছরের মধ্যে একটি।
হিমবাহ গলনের চিত্রও উদ্বেগজনক। গ্রিনল্যান্ডের বরফস্তর গত বছর ১৩৯ গিগাটন কমেছে, যা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের সমপরিমাণ বরফ হারানোর সমান।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ইউরোপের তাপমাত্রা প্রায় ২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড় ১.৪ ডিগ্রির তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান, বায়ুর স্বচ্ছতা এবং কমে যাওয়া তুষারস্তর—এসব কারণেই ইউরোপ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের জলবায়ু বিভাগের কর্মকর্তা ডুসান ক্রেনেক বলেন, ইউরোপ অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে উষ্ণ হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।