ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার হামলার কারণে পোল্যান্ডের আকাশ প্রতিরক্ষার ব্যয় বাড়ছে। এমনকি রুশ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ না করলেও সতর্কতামূলকভাবে যুদ্ধবিমান ওড়াতে গিয়ে দেশটিকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হচ্ছে।বৃহস্পতিবার পোল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম রজেচপসপোলিতা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার হামলার সময় পোল্যান্ড নিয়মিতভাবে সামরিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করছে। এসব অভিযানের অনেকগুলোই সতর্কতামূলক। ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পোল্যান্ডের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা না ঘটলেও যুদ্ধবিমান পরিচালনার ব্যয় বহন করতে হচ্ছে দেশটিকে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণসহ একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা ওড়াতে গড়ে ৭৬ হাজার ৮৫৯ জ্লোটি বা প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ ডলার ব্যয় হয়। সে হিসাবে দুটি যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা আকাশে রাখতেই খরচ হয় ১ লাখ ৫০ হাজার জ্লোটি বেশি, যা প্রায় ৩৮ হাজার ডলার। দীর্ঘ সময়ের অভিযানে বিকল্প যুদ্ধবিমান যুক্ত করতে হলে ব্যয় আরও বাড়ে।
তবে এই হিসাবের মধ্যে পুরো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে সতর্ক অবস্থায় রাখার খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে সামরিক কর্মীদের দায়িত্বপালন, রাডার পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র এবং ভূমিভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পোল্যান্ডের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার কারণে প্রায় প্রতিদিনই পোল্যান্ডের আকাশে সামরিক বিমান উড়ছে।
সংবাদমাধ্যমটি এই পরিস্থিতিকে পোল্যান্ডের ওপর এক অসম আর্থিক চাপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, পোল্যান্ডের আকাশসীমায় অস্ত্র প্রবেশ না করিয়েও রাশিয়ার হামলা ও তার জেরে সৃষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকি ওয়ারশকে উল্লেখযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যয় করতে বাধ্য করছে।
এদিকে পোল্যান্ড অতিরিক্ত রাডার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা, বিমানবিধ্বংসী কামান এবং শত্রু ড্রোন প্রতিহত করার জন্য ড্রোন সংগ্রহে বিনিয়োগ করছে। তবে এসব ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক এখনো পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
এমএমআর