বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে স্থানীয় নির্বাচন, যেখানে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে এটি সরকারের প্রথম বড় নির্বাচনি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে লাখো ভোটার এই নির্বাচনে অংশ নেবেন। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর এটি লেবার সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জরিপ অনুযায়ী, লেবার পার্টি উল্লেখযোগ্য আসন হারাতে পারে, যা স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে। যদিও তাকে সরিয়ে দেওয়া সহজ নয় এবং দলের ভেতরে শক্ত বিকল্প নেতৃত্বও এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টি এ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পেতে পারে। প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ভোটারদের অনাগ্রহই এই পরিবর্তনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক টিম বেল মনে করেন, সরকারের কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত, নেতৃত্বের যোগাযোগ দুর্বলতা এবং ভোটারদের আস্থাহীনতা বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।
ওয়েলসে লেবার পার্টির শতবর্ষী আধিপত্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে জরিপে ইঙ্গিত মিলেছে। প্রায় তিন দশক ধরে অঞ্চলটিতে শক্ত অবস্থান থাকলেও এবার তারা ক্ষমতা হারাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডেও লেবারের অবস্থান দুর্বল হতে পারে। সেখানে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) তাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারে এবং রিফর্ম ইউকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
ইংল্যান্ডেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছে লেবার। স্থানীয় কাউন্সিলের হাজার হাজার আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ হারাতে পারে দলটি, যেখানে রিফর্ম ইউকে ও কনজারভেটিভ পার্টি কিছু লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিকল্পের অভাবও বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে।
এদিকে লেবার দলের অভ্যন্তরেও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে, যদিও এখনই কোনো বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা স্পষ্ট নয়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারমারের নেতৃত্ব আপাতত টিকে থাকলেও তা রাজনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে থাকবে।
এসআর