নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ দেশের বিরোধী দলগুলো মমতার পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচন কমিশন এবং দেশের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছে। মমতার পাশে দাঁড়িয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
শুক্রবার সকালে সমাজমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর অভিযোগ তোলেন তিনি। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপিতে ভাঙনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি পোস্টে লেখেন, ‘প্রথমে শিবসেনা, তার পর এনসিপি, এখন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যেক বার একইভাবে বিজেপি আর নির্বাচন কমিশন যৌথ ভাবে একটি দলকে ভাঙে। তারপর তাদের নির্বাচনী প্রতীক ছিনিয়ে নেয়।’
রাহুল আরো বলেন, ‘ভোট চুরি, সরকার চুরির পর এবার দল চুরি। এটাই আমাদের গণতন্ত্রের পতনের প্রতীক হয়ে উঠেছে। যখন পুরো একটি দলকেই হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব, তখন কোটি কোটি ভারতীয়ের ভোটও যে চুরি হতে পারে, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে!’
নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কংগ্রেস নেতার বলেন, জনগণের রায়কে মান্যতা দেওয়া তাদের দায়িত্ব। অথচ বাস্তবে তারা সেই সব শক্তিকেই সহায়তা করছে, যারা জনগণের রায়কেই নস্যাৎ করে দেয়।
পোস্টের শেষে তৃণমূলনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে রাহুল লেখেন, ‘এই লড়াই কেবল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নয়। এটা প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং এমন প্রতিটি ভোটারের লড়াই, যারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চান।’
বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয় যে, জোড়াফুল প্রতীক আপাতত মমতার কালীঘাট এবং ঋতব্রত কোনো পক্ষই ব্যবহার করতে পারবে না। ব্যবহার করা যাবে না ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামও। কমিশন জানিয়েছে, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত ‘ফ্রিজ’ হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন পক্ষের এসব চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই আবার প্রতীক দেওয়া হবে।
আগামী ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্র নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিধানসভার উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। সব পক্ষই তার জন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের দুই পক্ষ এখনো জানে না, তারা কোন প্রতীকে লড়বে।
সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
আরএ