তিন মেয়াদ শেষে বিদায় মমতার, ক্ষমতায় বসছে বিজেপি
এবার পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুত্ববাদের বিজয়। ভরাডুবি হলো তৃণমূলের মমতার। পদ্ম ঝড়ে উড়ে গেছে ঘাসফুল। বাংলার রাজনীতির মানচিত্র ওলটপালট হয়ে গেল। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নীল-সাদা প্রাসাদের দখল নিল গেরুয়া শিবির।
পরিবর্তনের যে চোরাস্রোত গত কয়েক বছর ধরে বইছিল, গতকাল সোমবার তা কার্যত সুনামিতে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয় পেয়েছে ২০৬ আসনে। আর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ৭৮টি আসনে জয় এবং ৩টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস ২টি আসনে জয় পেয়েছে। ভবানীপুর আসনে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দুইশোর বেশি আসন নিয়ে বিজেপির বাংলার মসনদে বসা নিশ্চিত করতেই দিল্লির মঞ্চে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে কোনো চিরাচরিত সাজে নয়, ধুতি-পাঞ্জাবি পরে পুরোদস্তুর বাঙালি বেশে তিনি যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন তার কণ্ঠে বারবার ফিরে এলো ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ২০২৬-এর এ নির্বাচন ভারতের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং এটি মূলত সুশাসনের রাজনীতির জয়।
বাংলার এ ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট জাদুমন্ত্র কাজ করেনি, বরং ছিল সুপরিকল্পিত কৌশল এবং জনমানসের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নির্ণায়ক ভূমিকা নিয়েছে ‘ধর্মীয় মেরুকরণ’। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কট্টর হিন্দুত্বের প্রচার এবং অমিত শাহর অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রতিশ্রুতি হিন্দু ভোটারদের একজোট করতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বাঙালি হিন্দুদের মনে ‘অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা’ ইস্যু নিয়ে যে আশঙ্কার বীজ বিজেপি বপন করতে পেরেছিল, তার প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালট বাক্সে। যেখানে মুসলিম ভোট কিছুটা হলেও বিভক্ত হয়েছে, সেখানে হিন্দু ভোটব্যাংক প্রায় একাট্টা হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। তাদের আসন ১০০ পার হয়নি। হেরেছেন প্রায় এক ডজন মন্ত্রী। নিজ আসনে জিততে পারেননি মমতাও। এবার বাংলা হয়তো অসমের মতো হতে চলেছে। মুসলমানদের চরম দুরবস্থা হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুধু মেরুকরণ নয়, তৃণমূলের শীর্ষ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের হারের পেছনে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা’। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনে কর্মসংস্থানের অভাব, বড় শিল্পের অনুপস্থিতি এবং সর্বোপরি নিয়োগ দুর্নীতির কালো দাগ সাধারণ মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল। জেলাস্তরে তৃণমূল নেতাদের দাদাগিরি, তোলাবাজি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যে ক্ষোভ ছিল, বিজেপি সেই ক্ষোভকে সাফল্যের সঙ্গে ব্যবহার করেছে। ২০২১ সালের হারের শিক্ষা নিয়ে এবার বিজেপি তার রণকৌশল আমূল বদলে ফেলেছিল। কেন্দ্রীয় নেতারা এবার মমতাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের বদলে জোর দিয়েছিলেন প্রশাসনিক ব্যর্থতায়। ‘দিদি ও দিদি’র মতো বিতর্কিত স্লোগান থেকে সরে এসে তারা স্থানীয় সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়েছে। এমনকি যে ‘বহিরাগত’ তকমা বিজেপিকে বারবার পিছিয়ে দিচ্ছিল, তা ঝেড়ে ফেলতে বাঙালি ‘ভদ্রলোক’ শমীক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি করা বা জয় শ্রীরামের পাশাপাশি জয় মা কালীর ডাক দেওয়ার মতো কৌশলী পদক্ষেপ তারা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়া কিংবা প্রার্থীদের হাতে মাছ নিয়ে প্রচার করার ছবিগুলো মধ্যবিত্ত বাঙালির কাছে বিজেপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সাহায্য করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও এবারের নির্বাচনে জলঘোলা কম হয়নি। তৃণমূলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে (এসআইআর) প্রায় ৯১ লাখ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে শাসক দলের ভোট মেশিনারিতে আঘাত করা হয়েছে। যদিও বিজেপি একে নিরপেক্ষতার জয় বলে বর্ণনা করেছে। ফল ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গবাসীকে কোটি কোটি প্রণাম জানিয়ে একে ‘ভয় ও তোষণের রাজনীতির বিরুদ্ধে জনাদেশ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর—আজ সর্বত্র গেরুয়া পতাকা ওড়ার অর্থ হলো বিজেপির অগণিত কর্মীর আত্মবলিদান সার্থক হওয়া।
বাংলার এ পরিবর্তনের পাশাপাশি ভারতের আরো চার রাজ্যের ফলাফলও ছিল নজরকাড়া। তামিলনাড়ুতে এক অভূতপূর্ব কাণ্ড ঘটিয়েছেন দক্ষিণী মেগাস্টার বিজয় থালাপতি। তার নবগঠিত দল ‘তামিলগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে) কার্যত উড়িয়ে দিয়েছে ডিএমকে এবং এআইএডিএমকের মতো পুরোনো শক্তিকে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনকে তার দুর্গে হারতে হয়েছে বিজয়ের প্রার্থীর কাছে।
অন্যদিকে, কেরলে বামেদের শেষ দুর্গও ধসে পড়েছে। আর এ পরাজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৫০ বছর পর এই প্রথম ভারতের মানচিত্রে আর কোনো কমিউনিস্ট মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন না। সেখানে জয়ের হাসি হেসেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। আসাম ও পুদুচেরিতেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। সব মিলিয়ে সোমবারের দিনটি ভারতের নির্বাচনি ইতিহাসে নতুন মেরুকরণ এবং পালাবদলের সাক্ষী হয়ে রইল, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রইল বাংলার সেই কাঙ্ক্ষিত ‘পরিবর্তন’।
তামিলনাড়ুর ২৩৪টি আসনের লড়াইয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে অভিনেতা বিজয়ের দল টিভিকে ১০৭ আসনে জয়ের মাধ্যমে বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সেখানে ডিএমকে জোট ৭৪টি আসনে জয় পেয়েছে। কেরালার ১৪০টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ ৯৯টি আসনে জয়লাভ করে বামদের হারিয়ে ক্ষমতার দখল নিয়েছে। আসামে ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি জোট ১০২টি আসনে জিতে নিজেদের ক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং পুদুচেরির ৩০টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জিতে ফের সরকার গড়তে চলেছে এনডিএ জোট।
ভবানীপুরে ১৬ রাউন্ডের পর গণনাই বন্ধ
ভবানীপুরে ১৬ রাউন্ডের পর গণনাই বন্ধ হয়ে গেছে। তৃণমূল মারপিট শুরু করেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু অধিকারীর এজেন্ট। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। দুই প্রার্থীর মধ্যে গতকাল সকাল থেকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে।
এদিকে তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ, ভবানীপুরে গণনায় কারচুপির চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই গণনা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। মমতার এজেন্টকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ।
শুভেন্দুর মুখ্য নির্বাচনি এজেন্ট সূর্যনীল দাসের অভিযোগ, ১৬ রাউন্ড গণনার পর ভবানীপুরে ভোট গোনা থমকে গেছে। তার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে ভবানীপুরে এগিয়ে গেলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে ২৯৫৬ ভোটে পিছিয়ে মমতা। বাকি আরো চার রাউন্ড। এদিকে রাত আটটার দিকে তিনি কালীঘাটে বাসায় ফিরে যান। এর আগে তিনি বলেন, ১০০-এর বেশি আসন গণনায় লুটে নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ‘জরুরি বার্তা’ মমতার
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রার্থী, এজেন্ট ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’ গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর একটার দিকে মমতা ‘জরুরি বার্তায়’ এসব কথা বলেন। তিনি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি পোস্ট করেন। বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মধ্যে ‘জরুরি বার্তা’ দিলেন মমতা।
বিজেপির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে মমতা বলেন, তিনি আগেই বলেছিলেন, বিজেপির পরিকল্পনা হলো, তাদের আসনগুলোর ফলাফল আগে দেখানো হবে। আর তৃণমূলেরগুলো পরে। তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের অত মন খারাপ করার কারণ নেই। তিনি আগেই বলেছিলেন, সূর্যাস্তের পরে তৃণমূলই জিতবে।
মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান
সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ভোট গণনাকেন্দ্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছানো মাত্রই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকে স্কুলের বাইরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের ভিড় ছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা গাড়ি নিয়ে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা এর প্রতিবাদ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। চেয়ার ভাঙচুর এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, জগদীশচন্দ্র বোস কলেজের সামনেও ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। কলেজের ভেতরে তৃণমূল সমর্থকেরা অবস্থান করলেও বাইরে লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীদের মহড়া দিতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অনেক তৃণমূল সমর্থককে লুকিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
মমতার বাড়ির বাইরে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাস ভবনের সামনে বিজেপির কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়েছেন। সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোট গণনায় বিজয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পর থেকেই উল্লাস করতে থাকেন বিজেপি কর্মীরা। তারা রাস্তায় নিজেদের উপস্থিতি জোরালোভাবে প্রকাশ করতে শুরু করেন।
কোচবিহারে বিজেপি–তৃণমূল সংঘর্ষ
ভোট গণনার মধ্যে গতকাল দুপুরে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কোচবিহারের দিনহাটায় বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে যারা
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী কে হতে পারেন তা নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তারা হলেন বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্য বিজেপির সাবেক সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, সাবেক সাংবাদিক ও রাজ্যসভার সাবেক এমপি স্বপন দাশগুপ্ত প্রমুখ। এ নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার জোর দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একজন বাঙালিই হবেন।
ভোটপরবর্তী অশান্তির মেঘ বাংলায়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে অভাবনীয় ও রক্তক্ষয়ী পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল ৪ মে। এদিন ভোট গণনার প্রাথমিক প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট হয়, দেড় দশকের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি ঐতিহাসিক জয়ের পথে এগিয়ে চলেছে।
বিজেপির জয়ের আভাসে রাজ্যজুড়ে শুরু হয় চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত। গেরুয়া শিবির জয়ের গন্ধ পেতেই বিভিন্ন জায়গায় বিজয় উল্লাসের পাশাপাশি শাসকদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে বলে অভিযোগ সামনে আসছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে নির্বাচন কমিশন।
বিজেপির জয়ের ৫ কারণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় জয়ের পেছনে বিজেপি মূল পাঁচটি কারণকে চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলো- নারী ভোট, সরকারি কর্মী ও বকেয়া ডিএ, কেন্দ্র নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সরকারবিরোধী ক্ষোভ এবং স্বচ্ছ ভোটার তালিকা ও বহিরাগত ইস্যু।
প্রথমত তৃণমূলকে ‘নারীবিরোধী’ প্রমাণে বিজেপির প্রচার এবং নারী সংরক্ষণ বিল পাসের প্রভাব সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপকভাবে দাগ কেটেছে। এতে রাজ্যে নারীদের ভোট অন্তত পাঁচ শতাংশ গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, সপ্তম বেতন কমিশন চালু, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো এবং শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতি রাজ্যের প্রায় ২০-৫০ লাখ সরকারি কর্মচারী ও সরকারি চাকরি প্রত্যাশী তরুণদের মন জয় করতে সফল হয়েছে।
তৃতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের ‘গ্যারান্টি’ এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস প্রথমবার তরুণ ভোটার এবং মধ্যবিত্ত ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।
চতুর্থত, আর জি কর কাণ্ডের প্রভাব এবং রাজ্যের শাসকদলের ১৫ বছরের শাসনের বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বিজেপিকে সুবিধা এনে দিয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া পাহারায় সাধারণ মানুষ এবার নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন।
পঞ্চমত, স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশনের (এসআইআর) মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধন করে প্রায় ২৭ লাখ বহিরাগত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপির মতে, এর ফলে প্রকৃত ভোটাররা সঠিকভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছেন।
এমবি