উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি
চলমান ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণ কার্টুন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে বড় ধরনের এ বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ উঠেছে, বিজেপি সমর্থিত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর একটি অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, বিকৃত এবং নারীবিদ্বেষী কার্টুন ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় ইতিমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ @sanjayfu23 (Mr.Right) নামের একটি প্রোফাইল থেকে বিতর্কিত ছবিটি পোস্ট করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, এই প্রোফাইল উত্তর প্রদেশের ভাদোহি এলাকার এক স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদীর। কার্টুনটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো দেখতে একটি বড় নারীমূর্তি দেখানো হয়েছে, যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ভঙ্গিতে ভারতের সীমানার ওপর অবস্থান করছে।
কার্টুনের মাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ছবির নিচে ‘বাংলাদেশ’ থেকে ‘ভারত’-এর দিকে একদল মানুষকে প্রবেশ করতে দেখা যাচ্ছে। পোস্টটিতে একজন ব্যবহারকারী ‘দিস ইজ মমতা কালচার’ লিখে কটাক্ষ করেছে। এছাড়া কার্টুনে হিন্দিতে লেখা রয়েছে, ‘যদি বাংলাদেশিরা আমাদের দরজায় কড়া নাড়ে, তবে আমরা তাদের আশ্রয় দেব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
রাজ্য মহিলা কমিশন ছবিটিকে অত্যন্ত আপত্তিকর ও নারীত্বের অবমাননাকর বলে চিহ্নিত করে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে একজন নোরী মুখ্যমন্ত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এবং উত্তর প্রদেশের ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির খোঁজ চলছে। আদর্শ আচরণবিধি চলাকালীন এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানোর ঘটনায় নির্বাচন কমিশন বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। কোনো রাজনৈতিক দলের মদত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে এখন অশ্লীলতার আশ্রয় নিচ্ছে। দলের মুখপাত্রদের দাবি, বাংলার মা-মাটি-মানুষের নেত্রীকে অপমান করা মানে বাংলার নারীসমাজকে অপমান করা। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব সরাসরি এই কার্টুনের দায় স্বীকার না করলেও অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নারীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখা প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এআরবি