ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষই ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে তাদের বিতাড়নের পক্ষে। ইসরাইলের রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করলেও তার অনুসৃত নীতির বিরোধিতা করছে না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদিবাদী দল। এমন অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনের বালাদ পার্টির চেয়ারম্যান সামি আবু শাহাদেহ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সামি আবু শাহাদেহ বলেন, নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই শিবিরই স্পষ্টভাবে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যা, জাতিগত নিধন এবং গাজা ও পশ্চিম তীর থেকে তাদের বিতাড়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই রাজনৈতিক বক্তব্যের বিরোধিতা করছে—এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদিবাদী দল নেই। এমনকি যারা নেতানিয়াহুর বিরোধিতা করছে, তাদেরও তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে। কিন্তু তারা নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতা করছে না।’
আসন্ন ইসরাইলের নির্বাচন সামনে রেখেও দেশটির রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী ও ভিন্নধর্মী কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই বলে মন্তব্য করেন সামি আবু শাহাদেহ। তার মতে, নেতানিয়াহুর সমর্থক ও বিরোধী—দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।
তিনি বলেন, ‘দুই পক্ষই আরব-ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুদের ছাড়া সরকার গঠনের জোট তৈরি করতে পারছে না। এ কারণেই আমরা পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দুই পক্ষই বর্ণবাদী। তারা সহিংসতা ব্যবহারে প্রস্তুত।’
ইসরাইলের নির্বাচনে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব-ফিলিস্তিনি সংখ্যালঘুরা নির্ধারক ভূমিকা নিতে পারেন। তবে এ অবস্থান তাদের আরো বিপদের মুখে ফেলছে বলে মনে করেন বালাদ পার্টির চেয়ারম্যান।
সামি আবু শাহাদেহ বলেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু না হলে নির্বাচনের আগের সপ্তাহটি খুব কঠিন যাবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এএম