ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘ভূমিকম্পে’র সঙ্গে তুলনা করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ সংঘাতের ফলে ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির চক্র’ তৈরি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম শর্ত হিসেবে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান আল থানি।
রোববার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কাতার ইকোনমিক ফোরামের অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে শেখ মোহাম্মদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি কাঠামো প্রয়োজন, যেখানে রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হবে এবং কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের জন্য ‘হুমকি’ হয়ে উঠতে পারবে না।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল ‘একটি ভূমিকম্পের’ মতো। এর ‘কম্পন’ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকটকালে প্রায় প্রতিটি আলোচনার শুরুতেই নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে; এরপর আলোচনা ঘুরে গেছে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌ-চলাচলের পথের দিকে। পাশাপাশি আমাদের বিনিয়োগ ও পরিকল্পনাগুলোও অব্যাহত থাকবে। এগুলো আসলে একই প্রশ্নের ভিন্ন ভিন্ন রূপ। যখন সবকিছুতেই এত বেশি বিঘ্ন ঘটছে, তখন শেষ পর্যন্ত কীসের ওপর ভরসা করা যায়?’
কাতারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ‘ভিত্তি’ যে পরীক্ষার মুখে পড়েছিল, কাতার তা মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, অঞ্চলটিতে চলমান সংঘাতের প্রভাব কাতারের ওপরও পড়ছে।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘এমন কোনো ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, যেখানে কোনো একটি রাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখা হয়। আমাদের উত্তেজনার উৎসগুলো মোকাবিলা করতে হবে এবং পারস্পরিক আস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ