হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

নির্বাচনে ধাক্কা খেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আরো কোণঠাসা হচ্ছে ইসরাইল

আলজাজিরা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের অবস্থান আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করছেন খোদ দলটির নেতারা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল আসতে শুরু করার পর দেখা যায়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এরপর রিপাবলিকান শিবিরে পরাজয়ের কারণ নিয়ে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।’ তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ বিলিয়ন ডলারের ব্যয় হয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার। তাদের একাংশের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পেছনেও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের ভূমিকা ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রশাসন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল বলে মনে করেন তারা। ইসরাইলি সরকার তখন কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিল, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

ভ্যান্স জানান, এক জরিপকারী নির্বাচনে দল পরিবর্তন করে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী করলে তারা আবার রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন। তাদের উত্তরে উঠে এসেছে চারটি বিষয়—ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে ফিরে যাওয়া এবং ইসরাইলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন।

ভোটারদের এসব দাবি ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিরও বিপরীত। প্রচারের সময় তিনি বিদেশের যুদ্ধগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৬ জন বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। এর চেয়েও বেশি ভোটার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয়কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

লন্ডনের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন আলজাজিরাকে বলেন, ভোটাররা হয়তো যুদ্ধের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ভাবেননি। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই যুদ্ধের যোগসূত্র দেখেছেন। এ কারণে রিপাবলিকানদের শাস্তি দিয়েছেন।

ইসরাইলবিরোধী অবস্থানেও জয় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর

নির্বাচনে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে অসন্তোষের প্রভাব দেখা গেছে মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও। সেখানে ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ী সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার এই অবস্থান রিপাবলিকানদের অতীতের মধ্যবর্তী নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহৃত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বার্তার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায়।

রিপাবলিকানদের জোরালো প্রচার এবং ইসরাইলপন্থি প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির (এআইপ্যাক) বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জয় পেয়েছেন আল-সাইয়েদ। তার প্রচারের মূল বিষয় ছিল স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসরাইলের প্রতি ক্ষোভও তার জয়ের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হতে যাচ্ছেন।

বিজয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আল-সাইয়েদ বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ বর্ণবাদী ব্যবস্থা, গণহত্যা কিংবা যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক।’ এ সময় তিনি ভ্যান্সকেও কটাক্ষ করেন।

রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে ভ্যান্স ও আল-সাইয়েদ দুই বিপরীত মেরুর মানুষ। তবে ভ্যান্সের বক্তব্য অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—নেতানিয়াহুর সঙ্গে রিপাবলিকানদের সম্পর্কেও ফাটল তৈরি হচ্ছে।

অ্যান্ড্রু পেইন অবশ্য মনে করেন, রিপাবলিকানদের মধ্যে ইসরাইলনীতি নিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এখনই হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ইসরাইলের সমালোচনাকে সামনে রেখে পাওয়া সাফল্য দলটিকে আরো কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে।

পেইন বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এত স্পষ্ট মতপার্থক্য খুব কম বিষয়েই দেখা যায়। ফলে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

এআইপ্যাকের বিপুল অর্থ ব্যয়, তবু বড় ধাক্কা

বুধবার রাতে এআইপ্যাক দাবি করেছে, তাদের সদস্যদের সমর্থন পাওয়া ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রভাবশালী ইসরাইলপন্থি লবিগোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রার্থীর পক্ষে অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে থাকে।

একই পোস্টে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে অভিনন্দন জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মাধ্যমে দুই দলের মধ্যেই তাদের সমর্থন রয়েছে, সেই বার্তা দিতে চেয়েছে এআইপ্যাক।

তবে নির্বাচনে এআইপ্যাকের ব্যয়ের হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন।

তুলনায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ ও ৮৭ শতাংশ গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জয় পাওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে।

মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের জন্য সবচেয়ে ব্যয়বহুল ব্যর্থতার একটি। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু দুই নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন আল-সাইয়েদ।

ইসরাইলের প্রতি দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, এমন ডেমোক্র্যাট নেতাদের জন্য এই জয় গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। কারণ, আল-সাইয়েদ ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, বাইরের দাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের মুখেও নির্বাচনি লড়াই চালিয়ে গেছেন এবং ট্রাম্পের ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছেন।

ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

নির্বাচনের আগেই ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার রাজনৈতিক মূল্য বুঝতে পেরেছিলেন ট্রাম্প। ভোটের দিন তিনি বলেছিলেন, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে প্রতিবছর দেওয়া সামরিক সহায়তা বন্ধ করবে ওয়াশিংটন। তার ভাষায়, এতে ডেমোক্র্যাটদের একটি ‘খারাপ প্রচার-যুক্তি’ আর থাকবে না।

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইসরাইলকে প্রতিবছর ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই কীভাবে এই অর্থ দেওয়া বন্ধ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন তিনি। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।

গাজায় অস্ত্র সরবরাহে কী পরিবর্তন আসতে পারে

কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ডেমোক্র্যাটরা ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আরো কঠোর নজরদারি চালাতে পারে। আলজাজিরাকে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, কমিটির শুনানি ও তদন্তের মাধ্যমে গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্র কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পারেন আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী জানত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা।

ভবিষ্যতে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত আরোপ এবং নির্দিষ্ট অস্ত্র বিক্রি বন্ধে কংগ্রেসে ভোটের উদ্যোগও নিতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা।

এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন ধীরে ধীরে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর।

এ বছরের এপ্রিলে ইসরাইলের কাছে সামরিক বুলডোজার বিক্রির বিরোধিতা করে আনা একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ৪০ জন সিনেটর। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিছু অস্ত্র বিক্রির ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ তৈরি করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্পের (ইউএসএমইপি) প্রেসিডেন্ট এবং ইসরাইলের সাবেক শান্তি আলোচক ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে এমন উদ্যোগ আটকে যেতে পারে।

মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ‘উন্মাদ’ নীতিগত উদ্যোগ ঠেকাতে তিনি ভেটো ব্যবহার করবেন। প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কঠিন।

লেভি বলেন, নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা খাটো করে দেখা উচিত নয়। বর্তমান প্রশাসন এমনভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে। অথচ সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

কংগ্রেসে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিয়ে আরো কঠোর নজরদারি সম্ভব হলেও দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা সম্পর্ক ভেঙে ফেলা অনেক কঠিন বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

ল্যাঙ্কাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক সাইমন ম্যাবন বলেন, ইসরাইলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর হতে পারে। তবে এর পেছনে কংগ্রেসের বাইরেও গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সরকারের অন্য অংশ, বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতার সঙ্গে এসব সম্পর্ক জড়িত।

ম্যাবন আরো বলেন, ইসরাইলের প্রতি জনসমর্থন কমে আসার বিষয়টি কাজে লাগাতে পারেন ডেমোক্র্যাটরা। তবে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

ইসরাইলের পক্ষে সমর্থন ফেরানোর চেষ্টা

নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর এআইপ্যাক তাদের সদস্যদের জানিয়েছে, আগামী নির্বাচনি চক্রগুলোতে রাজনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়াতে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

ড্যানিয়েল লেভির মতে, আইনপ্রণেতাদের সমর্থন ধরে রাখতে ইসরাইলপন্থি লবিগোষ্ঠীগুলো এখনো যথেষ্ট অর্থ ব্যয় করতে পারে। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দেশটিকে চাপ সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি আরো বলেন, ইসরাইলের প্রতি কমতে থাকা সমর্থনের দায় দেশটির রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর না দিয়ে নেতানিয়াহু কিংবা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মতরিচের মতো উগ্র ডানপন্থি নেতাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করতে পারে লবিগোষ্ঠীগুলো। অথচ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং গাজায় হামলার ক্ষেত্রে ইসরাইলের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন রয়েছে।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ইসরাইলবিরোধী বলে যাদের বিবেচনা করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই আসলে দেশটির বিরোধী নন। তারা উগ্রপন্থি মন্ত্রীদের বক্তব্য, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করছেন, যেটি তারা বুঝতে পারছেন না। মূলত তাদের বিরোধিতা নেতানিয়াহুর প্রতি।

লাপিদ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রিপাবলিকানদের প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন। তার মতে, ইসরাইলের পরবর্তী সরকারের উচিত কংগ্রেসের উভয় দলের সঙ্গে বৈঠক করা এবং তাদের সমালোচনা শোনা। ইসরাইলে আরো উদারপন্থি সরকার ক্ষমতায় এলে ওয়াশিংটনের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে বন্ধ হয়ে আসা যোগাযোগ আবার চালু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তবে শুধু নেতানিয়াহুকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠন করলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের অসন্তোষ দূর হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ, গাজায় গণহত্যা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের বিরোধিতা করছেন অনেক ভোটার।

ড্যানিয়েল লেভি বলেন, অনেক ভোটার মনে করেন, ইসরাইলের ইচ্ছাতেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছে। ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে সেই যুদ্ধে না টানলে ওয়াশিংটন এতে জড়াত না।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি রাজনীতিতে ইসরাইলবিরোধী সমালোচনা কতটা জোরালো হচ্ছে, তা স্পষ্ট। তবে এই পরিবর্তন গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক নীতিতে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আনবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

লেভি বলেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বড় অংশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাদের চোখে, কয়েক বছর ধরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত। ফলে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন এখন আর প্রান্তিক কোনো বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; তা যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনায় জায়গা করে নিচ্ছে।

এএম

ইয়েমেনে পশ্চিমা সমর্থিত সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৪৪০ হুথি যোদ্ধা হতাহত

ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানকে ‘ধ্বংসের’ হুমকি, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের

‘যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়েছে ইরান’

মধ্যপ্রাচ্য বদলাতে গিয়ে নিজেদের সংকটে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

সৌদি-পাকিস্তানের সঙ্গে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদন করল তুরস্কের পার্লামেন্ট

ইয়েমেন যুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের

হেরে গিয়েও জুয়ার টেবিল ছাড়ছে না ট্রাম্প প্রশাসন: গালিবাফ

হরমুজে মাইনে আঘাত পেয়ে ট্যাংকারে আগুন, বন্ধ চলাচল

যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে সৌদির কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার দাবি হুথিদের