হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াতে ট্রাম্প এখনো রাজি নন। তার পরও ইয়েমেনে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রÑ এমনটাই মনে করছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক উইলিয়াম লরেন্স।
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযান আরো জোরালো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরব ১৩০টির বেশি বিমান অভিযান চালিয়েছে বলে হুথিদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর আগে সৌদি বাহিনীর একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করেছে হুথিরা। পাল্টা হামলায় সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে এখনো সায় দেননি। সরাসরি হামলা, জ্বালানি সরবরাহ বা অন্য কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে সম্মতি দেয়নি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ইয়েমেনে সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা করছে। দেশটিতে শতাধিক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা কাজ করছেন। হুথিদের অবস্থান শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হচ্ছে।
লরেন্সের মতে, পরিস্থিতি আরো জটিল হলে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন বন্দরগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের উদ্বেগ বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয়। হুথিরা এটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলে আঞ্চলিক সংঘাত আরো বড় আকার নিতে পারে।
হুথিদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এর আগে হুথিদের সঙ্গে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) যোগাযোগ ও উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানের সহায়তায় হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। হুথিরা অবশ্য বিভিন্ন সময় নিজেদের সিদ্ধান্তকে স্বাধীন বলে দাবি করেছে।
ইয়েমেনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। বারাক ওবামার আমলেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করেছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও সৌদি আরবকে সমর্থন দেওয়া হয়। ওই সময় ইয়েমেনে বেসামরিক মানুষের হতাহত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার সমালোচনা হয়েছিল।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইয়েমেন নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সংঘাত, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চাপের মধ্যে ইয়েমেনে নতুন করে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়া হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে।
এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসন ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। একই সঙ্গে সংঘাতের শেষ পরিণতি কী হবে, সে বিষয়েও ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। ফলে সৌদি আরবের সামরিক চাপ এবং হুথিদের পাল্টা প্রতিরোধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত কী ভূমিকা নেয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এএম