টানা ১০ দিনের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার পর ইরানে স্বল্প সময়ের জন্য সীমিত আকারে ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু গুগল ও মেসেজিং সেবায় অল্প পরিসরে সংযোগ ফিরলেও দ্রুতই ট্রাফিকের মাত্রা আবার নেমে যায়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনের নামে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড গোপন করতেই ইরান সরকার যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এএফপি জানায়, জানুয়ারির শুরুতে দেশজুড়ে অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ৮ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর করা হয়। এই সময়েই নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে আন্দোলন অনেকটাই স্তিমিত হয়ে আসে, যাকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ‘গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নেটব্লকস জানায়, রোববার রাতে খুব সীমিত ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিতভাবে কিছু সেবা চালু হলেও তা স্থায়ী হয়নি। তবে কিছু ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, হোয়াটসঅ্যাপে প্রবেশ করা যাচ্ছিল। এর আগে আন্তর্জাতিক কল, এসএমএস সেবাও ধাপে ধাপে চালু করা হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে “নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে” বলে মন্তব্য করার পর উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর জবাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর কোনো হামলাকে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে দেখা হবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, দেশে পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে এএফপি সংবাদদাতারা তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় সাঁজোয়া যান ও নিরাপত্তা বাহিনীর টহলের খবর দিয়েছেন। এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর রোববার স্কুলও খুলে দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে জানানো হয়েছে, ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞা দ্রুত তুলে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর ইরানসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, যাচাই করা ভিডিও ও বিবরণে তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ পেয়েছে। নরওয়েভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) বলছে, তারা ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যদিও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিদেশভিত্তিক বিরোধী চ্যানেল ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’ দাবি করেছে, নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে এসব সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষও কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব দেয়নি।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের দ্রুত বিচার করা হবে এবং সহিংসতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলাও হতে পারে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা করছে, বিক্ষোভ দমনে মৃত্যুদণ্ডকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্র: এএফপি
এসআর