চলমান ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলে সোমবার নিশ্চিত করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সংঘাতটি এখন তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে দগ্ধ হওয়া, আঘাতজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং বিস্ফোরণের টুকরো দ্বারা আঘাত অন্তর্ভুক্ত। ইতোমধ্যে ১৮০ জন সেনাসদস্য পুনরায় কাজে ফিরেছেন। এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে—কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক এবং ইসরাইলে।
সামরিক কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, অনেক আক্রমণ ইরানের ‘একমুখী’ ড্রোন হামলার কারণে ঘটেছে। মার্কিন বাহিনীর যৌথ চিফস অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন, এই ধরনের ড্রোন হামলাই সবচেয়ে বেশি হতাহতের কারণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে। সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরান কূটনৈতিক মিশন, হোটেল, বিমানবন্দর এবং আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা চালিয়েছে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে প্রায় এক ডজন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস হয়েছে।
জেনারেল অ্যাটমিক্স-এর তৈরি এই এমকিউ-৯ রিপার চালকবিহীন ড্রোনগুলো অত্যাধুনিক ক্যামেরা, সেন্সর এবং রাডারের সাহায্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের জন্য ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় ২৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আকাশে উড়তে পারে।