হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে কার কী পরিণতি হতে পারে

বিবিসির প্রতিবেদন

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: বিবিসি

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে ইরানের ওপর আগের চেয়ে আরো ভয়াবহ হামলা চালানোরে হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে যদি ট্রাম্প মার্কিন বাহিনীকে আক্রমণের নির্দেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে?

সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো মূলত পূর্বাভাসযোগ্য হলেও, ফলাফল আসলে কী হবে তা নিশ্চিত নয়। হামলার কতগুলো সম্ভাব্য পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে।

১. লক্ষ্যবস্তু, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ন্যূনতম বেসামরিক হতাহত, গণতন্ত্রে উত্তরণ

ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণাধীন আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ ইউনিটের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে সীমিত, নির্ভুল হামলা চালাতে পারে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও সংরক্ষণাগারের পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। সেইসঙ্গে বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রকৃত গণতন্ত্রে উত্তরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. নীতিমালা পাল্টে বর্তমান শাসনব্যবস্থার টিকে যাওয়া

একে ব্যাপকভাবে ‘ভেনিজুয়েলার মডেল’ বলা যেতে পারে, যেখানে দ্রুত, শক্তিশালী মার্কিন পদক্ষেপ শাসনব্যবস্থাকে অক্ষত রেখে তার নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে।

এর অর্থ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র টিকে থাকবে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তার সমর্থন কমাতে, অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে বা কমাতে এবং বিক্ষোভ দমনে শিথিলতা আনতে বাধ্য হবে।

৩. শাসনব্যবস্থার পতন এবং সামরিক শাসন শুরু

অনেকেই মনে করেন এটিই সম্ভাব্য ফলাফল। যেকোনো মার্কিন হামলার পরে ইরান শেষ পর্যন্ত একটি শক্তিশালী সামরিক সরকার দ্বারা শাসিত হতে পারে।

৪. মার্কিন বাহিনী ও প্রতিবেশীদের ওপর ইরানের আক্রমণ

যেকোনো মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান। বলেছে ‘আঙুল ট্রিগারে রয়েছে’।

স্পষ্টতই মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনীর শক্তির সঙ্গে ইরানের সক্ষমতার তুলনা করা যায় না। তবে তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আক্রমণ চালাতে পারে।

উপসাগরীয় এলাকায় বিশেষ করে বাহরাইন ও কাতারে মার্কিন ঘাঁটি এবং স্থাপনা রয়েছে। ইরান যদি ইচ্ছা করে, জর্ডানের মতো যে কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করেও আক্রমণ করতে পারে।

ইরানের উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীরা সবাই মার্কিন মিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধের ঢেউ তাদের ওপরও আছড়ে পড়তে পারে।

৫. ইরান মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিতে পারে

উপসাগরীয় যুদ্ধজাহাজে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেনেসর মতে, ইরানের পক্ষ থেকে হুমকির মধ্যে একটি হল একের পর এক আক্রমণ। ইরান দ্রুত হামলা চালিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে ক্রুদের বন্দি করতে পারে।

৭. শাসনব্যবস্থার পতন এবং দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা

এটি একটি অত্যন্ত বাস্তব ঝুঁকি, কাতার ও সৌদি আরবের মতো প্রতিবেশীদের জন্য এটি একটি প্রধান উদ্বেগের বিষয়। সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ার মতো গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি এই বিশৃঙ্খলা ও বিভ্রান্তির মধ্যে জাতিগত উত্তেজনা সশস্ত্র সংঘাতে পরিণত হতে পারে। কারণ কুর্দি, বেলুচি এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুরা দেশব্যাপী ক্ষমতার শূন্যতার মধ্যে তাদের নিজস্ব জনগণকে রক্ষা করার চেষ্টা করবে।

আরএ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে যা বললেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার

গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের পূর্ণ প্রত্যাহার জরুরি

ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে নেতৃত্ব কে নেবে?

গ্রেপ্তার এড়াতে গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছেন ইরানের বিক্ষোভকারীরা

ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ নিশ্চিতে জাতিসংঘের প্রতি ওআইসির আহ্বান

রেকর্ড দরপতনে ইরানি রিয়াল, এক ডলারে ছাড়াল ১৬ লাখ ২০ হাজার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করল তুরস্ক

ইরানের স্থিতিশীলতা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি: তুরস্ক

শান্তি বোর্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ঘোষণা, চীন-রাশিয়াসহ বাদ পড়ল যারা

আসাদ প্রত্যর্পণ ইস্যুর মধ্যেই মস্কোতে পুতিন-শারার সাক্ষাৎ