গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর আরোপিত অবরোধের ফলে এ পর্যন্ত মোট ২৭টি জাহাজকে তাদের পথ পরিবর্তন করতে বা ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই নৌ-অবরোধ অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে পালন করা হচ্ছে। ১৩ এপ্রিল সকাল থেকে কার্যকর হওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ এই অবরোধ বলয় ভাঙতে সক্ষম হয়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ২৭টি জাহাজকে মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশ মেনে ইরানের বন্দরে ফিরে যেতে হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলে জানান, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই অবরোধ পরিচালনা করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরানের বন্দর সংশ্লিষ্ট নয় এমন সাধারণ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে না।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর এই অবরোধ আরোপ করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধের ফলে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে ইরান এই পদক্ষেপকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং এর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল অবস্থান করছে। এমন এক সময়ে সেন্টকমের এই পরিসংখ্যান প্রকাশ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো এই অবরোধের মূল পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে।
সূত্র : আল-জাজিরা