পরমাণু নিয়ে আলোচনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির অন্তত ২৪ শহরে যৌথ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। গতকাল শনিবার এসব হামলা চালানো হয়। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক হয়, যা শেষ হয় কোনো সমাধান ছাড়াই। এরপর এ হামলার ঘটনা ঘটল।
এসব হামলায় ইরানে সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, যৌথ হামলায় ইরানে ২০১ জন নিহত এবং ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে। সেখানে অন্তত ৮৫ জন নিহত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপদ আছেন বলে জানা গেছে। তবে ইসরাইল দাবি করেছে, তাদের হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
আক্রান্ত হওয়ার পর ইরানও কড়া জবাব দেওয়া শুরু করেছে। দেশটি ইসরাইলের বিভিন্ন শহরের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইরাকও আক্রান্ত হয়েছে বলে খবর মিলেছে। ইসরাইল জানিয়েছে, ইরানের হামলায় অন্তত ৮৯ জন সামান্য আহত হয়েছেন। খবর আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স, তাসনিম নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই ও জেরুজালেম পোস্টের।
সংঘাতের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব দেশে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থগিত করা হয়েছে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট। এছাড়া বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের প্রধান লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। যার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যৌথ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আমেরিকার জনগণকে রক্ষায় ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য ইরানি শাসকগোষ্ঠীর হুমকি দূর করে আমেরিকান জনগণকে রক্ষা করা।
একই সুরে কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। হামলার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, অস্তিত্বগত হুমকি দূর করার লক্ষ্য নিয়ে ইরানের ওপর হামলা করা হয়েছে।
গতকাল হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি মার-এ-লাগো থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা দুপক্ষকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘও বিবদমান দেশগুলোকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
গতকাল ইসরাইলের হামলায় ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছেÑতাবরিজ, উরমিয়া, জানজান, খারাজ, তেহরান, দামবন্দ, কউম, কেরমানশাহ, লোরেস্তান প্রদেশ, ইস্পাহান, বুশেহর, শিরাজ, মিনাব, চাবাহার এবং ইলাম।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, তেহরানের বেশকিছু ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়। ভবনটির প্রায় অর্ধেক মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বাকি অর্ধেকের অবস্থাও নাজুক। ইতোমধ্যে সেখানে ৮৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরটির মোহাম্মদ রাদমেহর নামে এক কর্মকর্তা ইরনা নিউজ এজেন্সিকে জানান, সকালে এ বিদ্যালয়ে সরাসরি হামলা চালানো হয়। যখন হামলা হয়, তখন স্কুলে প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ছিল।
ইরাকে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের (পিএমএফ) ওপরও হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংগঠনের এক মুখপাত্র বলেছেন, বাগদাদের দক্ষিণে জুরফ আল-সাখারে হওয়া হামলায় দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাজধানী তেহরানে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, উত্তর তেহরানে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ও সর্বোচ্চ নেতা খামেনির প্রাসাদের কাছে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
রয়টার্স জানিয়েছে, খামেনি তেহরানে নেই। তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এনবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি যতদূর জানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বেঁচে আছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানও নিরাপদ আছেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। প্রেসিডেন্সিয়াল অফিসের কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম ইরনা জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিরাপদ আছেন।
ইসরাইল যদিও দাবি করেছে, ইরানের বেশ কয়েকজন সিনিয়র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। দেশটির সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, হামলায় ইরানের সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ইরানের সরকারের কর্মকর্তারা ছিলেন এমন তিনটি ভবনে একই সময়ে হামলা চালানো হয়। যার পরিকল্পনা কয়েক মাস ধরে করা হচ্ছিল।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, শনিবার ২০০টিরও বেশি ইসরাইলি বিমান ৫০০টি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। এটি ইসরাইলি বাহিনীর দ্বারা পরিচালিত সবচেয়ে বড় বিমান হামলা।
হামলায় ইরানের ইন্টারনেট ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল নেটব্লকস জানায়, ইরান এখন প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের মধ্যে রয়েছে।
বিভিন্ন শহর যখন আক্রান্ত, তখন আগ্রাসনকারীদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-কে ‘ইসরাইল ফার্স্ট’-এ পরিণত করেছেন। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত এবং আক্রমণকারীদের তাদের প্রাপ্য শিক্ষা দেবে।
আক্রান্ত হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর ইরান পাল্টা হামলা শুরু করে। এরপর থেকে ইসরাইলের তেলআবিব, জেরুজালেম ও হাইফাতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। দেশটির সেনাবাহিনী জনগণকে জরুরি নির্দেশিকা অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া স্কুল বন্ধ করা হয়েছে এবং নিষিদ্ধ করা হয়েছে সমাবেশ।
ইরানের হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের শহর রিয়াদ, আবুধাবি, দুবাই, মানামা, দোহা এবং কুয়েতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জর্ডানের রাজধানী আম্মানেও ঘটেছে বিস্ফোরণ। এছাড়া সিরিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় হামলা চলতে থাকবে বলে হুংকার দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল এবং মার্কিন সব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। শত্রুকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত না করা পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। বাহিনীটি আরো বলেছে, এই অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি এখন ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
হামলার তীব্রতার মধ্যে তেহরানবাসীকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। নিরাপত্তা কাউন্সিল বিবৃতিতে জানায়, পরিস্থিতির কারণে আপনার উচিত, যতদূর সম্ভব অন্য স্থান বা শহরে চলে যাওয়া।
সংঘাতের মধ্যে ইরানের পক্ষ নিয়ে লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলছে, তারা দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলা শুরু করবে।
হুতি গোষ্ঠী গতকাল বিবৃতিতে জানায়, ইরানের সমর্থনে ইসরাইলে পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাব-আল মান্দেব প্রণালিতেও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজে হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে আক্রান্ত দেশগুলো। কুয়েতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবৃতিতে বলেছে, কুয়েতের মাটিতে চালানো হামলার নিন্দা জানাই। আমরা এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রাখি।
কাতারও ইরানের হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশটি বিবৃতিতে বলেছে, কাতার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। এটি তার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, তার নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আক্রমণ এবং অগ্রহণযোগ্য। বিবৃতিতে দেশটিও প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকার রাখে বলে জানায়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত বিবৃতিতে বলেছে, ইরান দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই হামলা জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর প্রতিক্রিয়া জানানোর পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে।
বাহরাইনও তাদের দেশে হওয়া হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দেশটিতে মার্কিন নৌবাহিনীর ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা যায়। এ হামলাকে মানামা ‘বিপজ্জনক আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, ইরানের হামলা সুস্পষ্টভাবে সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার লঙ্ঘন।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কার মধ্যে বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটি বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান এবং কুয়েতে ইরানের হামলার কঠোর নিন্দা জানায় সৌদি আরব। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘনের জন্য সৌদি আরব ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করেছে।
হামলা পাল্টা হামলার মধ্যে দুপক্ষকে থামতে বলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বলেছেন, সংলাপকে আবারও উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বিশ্ব শান্তি কোনোটিই রক্ষা পাবে না। আমি নিরপরাধদের জন্য প্রার্থনা করছি যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ এটি তোমাদের যুদ্ধ নয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান উত্তেজনা সবার জন্যই বিপজ্জনক। এটি এখনই থামাতে হবে।
ইরানের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। তিনি বলেন, ইরানে হামলার নিন্দা করছি আমরা। সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীন। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানিয়েছে দেশটি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করতে হবে। সব পক্ষকে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সংলাপ পুনরায় শুরু করতে হবে।
ইন্দোনেশিয়া বলেছে, দেশটির প্রেসিডেন্ট মার্কিন-ইরান সংলাপ সহজতর করতে প্রস্তুত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হামলা থামাতে অনুরোধ করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলি আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এই সমস্যার সমাধান করতে হবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে। এ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে প্রস্তুত রয়েছে দেশটি।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কথিত শান্তিপ্রতিষ্ঠাকারী আবার তার আসল রূপ দেখাল। সমঝোতার জন্য হওয়া সব আলোচনা ছিল লোকদেখানো।
জাতিসংঘও সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে সংযত হতে বলেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক বিবৃতিতে বলেছেন, ইরানজুড়ে ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার নিন্দা জানাই। যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে, বেসামরিক লোকদেরই চূড়ান্ত মূল্য দিতে হয়। ক্ষেপণাস্ত্র এবং বোমা মতপার্থক্য নিরসনের উপায় নয়। এর ফলে কেবল মৃত্যু, ধ্বংস এবং মানুষের দুর্দশা বাড়বে। বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এই ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে, আমি সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা ক্যালাস বিবদমান দুই পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া একই অনুরোধ জানিয়েছে বেলজিয়াম, নরওয়ে, পাকিস্তান, স্পেনসহ বিভিন্ন দেশ। ইরানে হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভেনেজুয়েলাও।
এদিকে লেবাননেও হামলা জোরদার করেছে ইসরাইল। হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অবকাঠামোতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। গত দুই বছরে এ গোষ্ঠীর প্রায় অধিকাংশ শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে ইসরাইল। ইরান আক্রান্ত হওয়ার পর গোষ্ঠীটি সহমর্মিতা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তবে তারা এই সংঘাতে যুক্ত হবে কি না সে বিষয়ে কিছু বলেনি।