হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিম তীরে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন বিতর্ক

আমার দেশ অনলাইন

পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ সম্প্রতি এসব বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপের কার্যকারিতা ও এর লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে।

পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলো লক্ষ্য করে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ইসরাইল রাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহত্তর বাণিজ্য সম্পর্ক অব্যাহত থাকছে। বসতিগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম আলাদা করে শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে ইসরাইলি রাষ্ট্রের নীতি ও ভূমিকা নিয়েই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এটি সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর অবস্থান নয়।

৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা ইসরাইলি বসতিগুলো থেকে বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে নরওয়ে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামও বসতি থেকে বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছিল। আরো কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এ ধরনের উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের ঘোষণায় পশ্চিম তীরের বসতিতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি কার্যকর হলে খেজুর, জলপাই তেলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য এর আওতায় পড়তে পারে। তবে বসতিভিত্তিক বাণিজ্যের পরিমাণ ইসরাইলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মোট বাণিজ্যের তুলনায় খুবই ছোট। ফলে এর অর্থনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও প্রতীকী প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

এই পদক্ষেপের পেছনে পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণ ও সেখানে সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কাজ করছে। বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও অধিকারসংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষাপটে এসব বাণিজ্যিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রেখে শুধু বসতি থেকে আসা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও বিষয়টি বিতর্কিত। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি বসতিগুলোর কোনো আইনগত বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের একটি পরামর্শমূলক মতামতেও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি-সম্পর্কিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি উঠে আসে। তবে আদালতের ওই মতামত একটি পরামর্শমূলক মতামত, বাধ্যতামূলক রায় নয়।

শুধু বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমাধান হবে না। বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে ইসরাইলি রাষ্ট্রের ভূমিকা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সেই প্রশ্নও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণে বিবেচনায় থাকা উচিত। তবে এটি নিবন্ধকারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি অবস্থান হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা যাবে না।

পশ্চিম তীরের বসতিকে কেন্দ্র করে ইউরোপ ও কানাডার সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ তাই ইসরাইলের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে এসব নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংকটের ওপর এর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও আল জাজিরা

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের পক্ষে ইসরাইলি ইহুদিদের যুক্তি কী

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বলপ্রয়োগে ইরানের জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না: পেজেশকিয়ান

সংকট সামাল দিতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক নিশ্চিত করার আহ্বান কাতারের

ইয়েমেনে সৌদির বিমান হামলায় আরো ৬ জন নিহত

হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদিকে সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্য

ইরানের সব এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

আমি আমার সন্তানদের হারিয়েছি, আবারো অনাগত সন্তান হারানোর ভয়ে আছি

হুথিদের থেকে কয়েকটি স্থান পুনর্দখলের দাবি ইয়েমেনি বাহিনীর