হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ধাক্কা খেল সৌদি যুবরাজের ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন

আমার দেশ অনলাইন

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) উচ্চাভিলাষী ‘ভিশন ২০৩০’ পরিকল্পনা একসময় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার স্বপ্ন হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল। মরুভূমির বুকে ভবিষ্যতের শহর, প্রযুক্তিনির্ভর নগরসভ্যতা ও তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে নেওয়া এসব প্রকল্প এখন বাস্তবতার কঠিন চাপে পড়ে পুনর্মূল্যায়নের মুখে পড়েছে।

এক দশক আগে সৌদি আরব ঘোষণা দেয় ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির। এর মাধ্যমে দেশটিকে আধুনিক প্রযুক্তি, পর্যটন, বিনিয়োগ ও বিনোদনের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবলের (পিআইএফ) প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে শুরু হয় একের পর এক মেগা প্রকল্প।

বিশেষ করে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের নিওম মেগা-সিটি প্রকল্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কল্পবিজ্ঞানের মতো নকশা ও অত্যাধুনিক নগর পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রশংসা যেমন কুড়ায়, তেমনি সমালোচনাও হয় ব্যাপক।

তবে ২০৩০ সালের আর মাত্র চার বছর বাকি থাকতেই দেখা যাচ্ছে, অনেক প্রকল্পই এখন গতি হারাচ্ছে। কিছু প্রকল্পের পরিধি ছোট করা হয়েছে, কিছু স্থগিত রাখা হয়েছে, আবার কিছু পুরোপুরি বাতিলের পথে।

বিশ্লেষকদের মতে, এর অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক চাপ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় সৌদি আরবের রাজস্বে বড় ধাক্কা লাগে। যদিও সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, তবু আঞ্চলিক অস্থিরতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এছাড়া সৌদি সরকার যেভাবে বিদেশি বিনিয়োগের আশা করেছিল, বাস্তবে তা অর্জিত হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনায় বাস্তবসম্মত বাজার বিশ্লেষণের অভাব ছিল। অনেক ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো শাসকদের খুশি রাখতেই অতিরঞ্জিত সম্ভাবনার কথা বলেছে।

এর আগে একই ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে লোহিত সাগর উপকূলে কিং আবদুল্লাহ ইকোনমিক সিটি গড়ে তোলা হলেও সেটি প্রত্যাশিত ব্যবসা ও পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি খাতের বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি করা। কিন্তু বিপুল বিনিয়োগের পরও বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।

এদিকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের রাজনৈতিক পদক্ষেপও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০১৭ সালে রিয়াদের রিটজ-কার্লটন হোটেলে বহু ধনকুবের ও কর্মকর্তাকে আটকে রেখে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ড তার ভাবমূর্তিতে স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।

তবে ‘ভিশন ২০৩০’ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি বলেও মনে করছেন অনেকে। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেওয়া, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও বিনোদন আয়োজন, এবং সামাজিক পরিবর্তনের নানা উদ্যোগ সৌদি সমাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছে।

বর্তমানে নতুন করে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে আরো অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পর্যটন, উৎপাদনশিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা ছিল, যুদ্ধের কারণে তার বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে খনিজ খাত এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এআরবি

ইরানকে যে ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করেছিল তুরস্ক

ইরাকের পর মাশহাদে খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে জনসমুদ্র

গাজায় ইসরাইলের গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৩,১১৮

জর্ডানের সামরিক ঘাঁটিতে ১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি আইআরজিসির

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের বুশেহরে আইআরজিসি স্থাপনায় আগুন

হরমুজের বিকল্প তেল রুট হিসেবে সিরিয়াকে ভাবছে ফ্রান্স

খামেনিকে দাফনের জন্য প্রস্তুত মাশহাদ

ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যের পাল্টা জবাব না দেওয়ার ঘোষণা ইরানের প্রেসিডেন্টের

বাবার দেওয়া নাম বদলালেন নেতানিয়াহুর ছেলে, নেপথ্যে কী

দুই দিনে ইরানের ১৭০টির বেশি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের