হরমুজ প্রণালির সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও কৌশলগত বিশ্লেষক মার্ক ফাইফেল মনে করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ঠিক সেই অবস্থানেই দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে আলোচনা শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ, দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে সরেনি।
ফাইফেলের মতে, ইরান চায় তাদের ওপর থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ তুলে নেওয়া হোক এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান বন্ধ হোক। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প চান ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগ করুক, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করুক এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করে দিক।
তবে মার্ক ফাইফেল মনে করেন, ট্রাম্পের পক্ষে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু করার সম্ভাবনা কম।
এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি ট্রাম্প ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে। আলংকারিক অর্থে হলেও এর মাধ্যমে বড় কোনো সামরিক অভিযানে পুনরায় জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা আপাতত টেবিল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফাইফেল আরো জানান, ট্রাম্প এখন অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেবেন। নৌ অবরোধের পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালির উপকূলে সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। এর লক্ষ্য হতে পারে ইরানের দ্রুতগামী বোট, ড্রোন লঞ্চ প্যাড এবং ক্ষেপণাস্ত্র সাইটগুলো, যা অবরোধে থাকা জাহাজগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ট্রাম্প নিষেধাজ্ঞা আরো কঠোর করতে পারেন অথবা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পাহারায় ইউরোপীয় ও এশীয় নৌবাহিনীকে যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারেন।
তবে সতর্ক করে এই বিশ্লেষক বলেন, এই সীমিত বিকল্পগুলো ছাড়া ট্রাম্পের হাতে এখন ‘খুব বেশি হাতিয়ার বা অস্ত্র অবশিষ্ট নেই’।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম