ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ আখ্যা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশ। ইইউর এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তেহরান বলছে, এটি অবৈধ, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর হস্তক্ষেপ। খবর আল জাজিরার।
ইরান বলছে, ‘তেহরান সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করে এবং এই পদক্ষেপের পরিণতির জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো দায়ী থাকবে।’
১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি দেশটির সেনাবাহিনীর একটি অভিজাত শাখা। এটি সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে জবাবদিহি করে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি তত্ত্বাবধান করে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানায় ইইউর পররাষ্ট্র বিভাগের প্রধান কাজা কালাস। তিনি জানান, আইআরজিসিকে ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে হত্যা এবং তাদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানোর ঘটনায় তেহরানের প্রতি শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে ইইউ।
কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টার্গেট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এস্কান্দার মোমেনি এবং প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি-আজাদ।
ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও আর্থসামাজিক সমস্যা নিয়ে জনরোষের মধ্যে গত মাসের শেষের দিকে শুরু হওয়া একটি গণবিক্ষোভ দমন করার জন্য ইরান আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দার ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছে।