হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

যেভাবে হয়েছিল ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফের বন্ধুত্ব

বিবিসি বাংলা

একসময় তারা ছিলেন বন্ধু। ক্রিকেট ছিল তাদের পরিচয়ের অন্যতম সূত্র। একে অপরের সাফল্যে সহায়তাও করেছেন। এমনকি এক সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে একসঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে যায়। তারা হয়ে ওঠেন পাকিস্তানের রাজনীতির দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী।

ইমরান খান ও নওয়াজ শরীফ—দুজনই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। তবে কেউই সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ করতে পারেননি। দুজনের রাজনৈতিক উত্থান-পতনে দেশটির সামরিক প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। একপর্যায়ে দুজনই একই জেনারেলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। আবার ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠতার সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে উঠেছে। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুজনই একই প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করেছেন।

দুজনকেই বিতর্কিত মামলায় সাজা ও কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি দুই ভিন্ন নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁদের সাজা হয়েছিল। অন্তত একটি মামলায় রায় দেওয়া বিচারকও ছিলেন একই ব্যক্তি।

কীভাবে বন্ধুত্ব থেকে এই তীব্র রাজনৈতিক বৈরিতা তৈরি হলো—এ নিয়ে তাঁদের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগীর সঙ্গে কথা বলেছে বিবিসি উর্দু।

ক্রিকেটেই পরিচয়

লাহোরের জামান পার্ক ও রেলওয়ে স্টেশনের কাছে সারায়ি সুলতান চকের দূরত্ব প্রায় পাঁচ কিলোমিটার। পুরোনো লাহোরে বসবাসকারী নওয়াজ শরীফ ছিলেন ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। আর জামান পার্কে বেড়ে ওঠা ইমরান খানের বাবা ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।

দুজনেরই ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ ছিল। ক্রিকেটই তাদের পরিচয়ের পথ তৈরি করে। ইমরান খান পরবর্তী সময়ে তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতায়ও সেই সময়ের কথা উল্লেখ করেছেন।

১৯৭১ সালেই পাকিস্তানের টেস্ট দলে জায়গা পান ইমরান। নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট ক্যারিয়ার অবশ্য ক্লাব পর্যায়েই সীমিত ছিল।

লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবের সাবেক সম্পাদক ও ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার জামিল রানা ছিলেন শরীফ পরিবারের ঘনিষ্ঠ। একসময় তিনি নওয়াজ শরীফের ব্যাটিং সঙ্গীও ছিলেন।

জামিল রানা জানান, একবার তিনি নওয়াজ শরীফের বাবা মিয়া মুহাম্মদ শরীফের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে শাহবাজ শরীফ তাকে দেখে বলেন, তাকে পরিচিত মনে হচ্ছে। পরিচয় জানার পর শাহবাজ তাকে জিমখানা ক্লাবের সদস্য করার ব্যবস্থা করতে বলেন।

তখন ক্লাবের সম্পাদক ছিলেন মেজর শরীফ। জামিল রানা তার কাছে গিয়ে বলেন, এক ব্যবসায়ী পরিবারের দুই ছেলে ক্লাবের সদস্য হতে চান। তারা ক্রিকেট খেলেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা জানেন না, তবে তাদের ব্যবসা ভালো। এরপর তাদের দুটি সদস্যপদ ফর্ম দেওয়া হয়।

এভাবেই নওয়াজ শরীফ ও শাহবাজ শরীফ লাহোর জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবের সদস্য হন।

নওয়াজ শরীফ এর আগেও ক্রিকেট খেলতেন। সাংবাদিক পি জে মীর জানান, ১৯৭০-৭১ সালের দিকে নওয়াজ শরীফ ইত্তেফাক ক্রিকেট ক্লাব নামে একটি দল গড়েছিলেন। সেখানে খেলোয়াড়দের মাসে ২৫০ রুপি দেওয়া হতো। ওই সময়ের হিসাবে এটি ছিল বড় অঙ্কের অর্থ।

মীর বলেন, নওয়াজ শরীফের কাছে তখন সবচেয়ে ভালো ক্রিকেট সরঞ্জাম থাকত। বিদেশ থেকে আনা সরঞ্জাম ব্যবহার করতেন তিনি। এমনকি মীর নিজের ফার্স্ট ক্লাস অভিষেকের সময় নওয়াজের কাছ থেকে জুতা ধার নিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট ক্রিকেটার ও কোচ মুদাস্সির নাজারও নওয়াজ শরীফের ক্রিকেট খেলার কথা স্মরণ করেন। তার ভাষ্য, ১৯৭০-এর দশকে গভর্নমেন্ট কলেজ লাহোরের সঙ্গে ইত্তেফাক ক্লাবের একটি ম্যাচ হয়েছিল। ম্যাচে নওয়াজ শরীফ মাঠে নামার প্রস্তুতি নিলেও তাঁদের দল শেষ পর্যন্ত আর মাঠে ফেরেনি।

ইমরান-নওয়াজের প্রথম দেখা

ইমরান খান তার আত্মজীবনী পাকিস্তান: আ পার্সোনাল হিস্ট্রি বইয়ে লিখেছেন, ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে স্থানীয় একটি ক্রিকেট ক্লাবে নওয়াজ শরীফের সঙ্গে তার প্রথম দেখা হয়। তখন নওয়াজকে তাঁর কাছে রাজনীতির চেয়ে ক্রিকেটে বেশি আগ্রহী একজন সাধারণ মানুষ মনে হয়েছিল।

সেই ক্লাবটি ছিল জিমখানা।

জামিল রানা জানান, ইংল্যান্ড থেকে ইমরান খান দেশে ফিরলে তিনি রোববার জিমখানায় খেলতে আসতেন। সেখানেই ইমরান ও নওয়াজের পরিচয়।

তবে শুরুটা খুব বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল না।

তখন ইমরান বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন। আর নওয়াজ শরীফ রাজনীতিতে প্রবেশের শুরুর দিকে। পি জে মীরের ভাষ্য, ইমরান নওয়াজকে প্রায়ই বাউন্সার দিতেন। ১৬ পা দৌড়ে এসে করা ইমরানের বল নওয়াজের বুকে আঘাত করত। তাঁরা ইমরানকে বলতেন, ‘মানুষ হও, কী করছ?’

একদিন নওয়াজ শরীফের গাড়ির পাশে ইমরানের গাড়ি এসে থামে। মীর ইমরানকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি নওয়াজকে চেনেন কি না। ইমরান বলেন, দেখেছেন।

পরে দুজনের কথা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।

মুখ্যমন্ত্রী নওয়াজ, অধিনায়ক ইমরান

আশির দশকে দুজনই নিজেদের পেশাগত জীবনের শীর্ষে উঠতে থাকেন। ১৯৮২ সালে ইমরান খান পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হন। এর আগে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হওয়া নওয়াজ শরীফ ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন।

তখন দুজনেরই সামরিক শাসক জেনারেল জিয়া-উল-হকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও নওয়াজের ক্রিকেটপ্রেম কমেনি। জামিল রানা জানান, তিনি নিয়মিত জিমখানায় খেলতে আসতেন। এ সময় আন্তর্জাতিক দলের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেন।

১৯৮৭ সালে নওয়াজ শরীফকে নিয়ে একটি ঘটনা ইমরান খান তার বইয়ে লিখেছেন।

বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের একটি প্রস্তুতি ম্যাচে হঠাৎ জানতে পারেন, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ পাকিস্তান দলের অধিনায়ক হবেন। ইমরান প্রথমে ভেবেছিলেন, নওয়াজ হয়তো ড্রেসিংরুম থেকে ম্যাচ দেখবেন।

কিন্তু তাকে ক্রিকেটের পোশাক পরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ভিভ রিচার্ডসের সঙ্গে টস করতে মাঠে নামতে দেখে ইমরান অবাক হন।

এরপর আরো বড় বিস্ময় অপেক্ষা করছিল। টসে জিতে নওয়াজ ড্রেসিংরুমে ফিরে প্যাড পরতে শুরু করেন। তিনি মুদাস্সির নাজারের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভয়ংকর ফাস্ট বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ওপেন করতে চেয়েছিলেন।

মুদাস্সির নাজার পুরো নিরাপত্তা সরঞ্জাম পরে প্রস্তুত হন। আর নওয়াজ শুধু প্যাড ও টুপি পরে মাঠে নামেন।

ইমরান লিখেছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই বোলিং আক্রমণ ছিল বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর। তাই নওয়াজ শর্ট বলের মুখোমুখি হলে গুরুতর বিপদ হতে পারে ভেবে তিনি মাঠে অ্যাম্বুলেন্স আছে কি না, তা খোঁজ নেন।

প্রথম বল নওয়াজের ব্যাটে লাগেনি। পরের বলেই তিনি বোল্ড হয়ে যান। এতে ইমরানের উদ্বেগের অবসান হয়।

ইমরানের সাফল্যে নওয়াজের ভূমিকা

১৯৮৮ সালে নওয়াজ আবার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯০ সালে প্রথমবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। একই সময় ইমরান খানের ক্রিকেট ক্যারিয়ারও সবচেয়ে বড় সাফল্যের দিকে এগোয়। ১৯৯২ সালে পাকিস্তান বিশ্বকাপ জেতে।

জ্যেষ্ঠ ক্রীড়া সাংবাদিক কামার আহমেদের দাবি, বিশ্বকাপের আগে ফিটনেস সমস্যার কারণে জাভেদ মিয়াঁদাদকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরে নওয়াজ বিষয়টি জানতে পারেন এবং মিয়াঁদাদের সঙ্গে তার দেখা হয়।

কামার আহমেদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিয়াঁদাদকে দলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তবে মিয়াঁদাদ নিজে এ বিষয়ে নওয়াজের ভূমিকা নিশ্চিত করেননি। তিনি বলেন, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল ফিটনেস সমস্যার কারণে এবং তিনি আগে ফিটনেস পরীক্ষায় পাস করতে চেয়েছিলেন।

তবে ইমরান খানের পরবর্তী বড় প্রকল্প শওকত খানম হাসপাতাল নির্মাণে নওয়াজ শরীফের ভূমিকার বিষয়টি আরও স্পষ্ট।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপের আগেই পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নওয়াজ হাসপাতালের জন্য জমি পেতে ইমরানকে সহায়তা করেন। ১৯৯১ সালের এপ্রিলে হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে নওয়াজকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় অভিনেতা দিলীপ কুমারও উপস্থিত ছিলেন।

পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানানো হয়, নওয়াজ হাসপাতালের জন্য এক কোটি রুপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সাংবাদিক সোহেল ওয়ারাইচ বলেন, তখন নওয়াজের ছেলেরাও ইমরান খানের ভক্ত ছিলেন এবং হাসপাতালের জন্য তারা অনুদান দিয়েছিলেন।

রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে আয়োজিত সংবর্ধনায় নওয়াজ শরীফ বলেন, তিনি এর আগে ইমরান খানকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ইমরানকে প্রশ্ন করেন, তিনি কেন রাজনীতিতে আসেননি। ইমরান বলেন, তাকে দুবার রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি মনে করতেন, তিনি রাজনীতিবিদ হতে পারবেন না।

কয়েক বছর পর সেই ইমরানই ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠা করে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।

দল গঠনের আগে ইমরান পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় সফর করছিলেন। অন্যদিকে নওয়াজ শরীফ তখন বেনজির ভুট্টোর সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন।

ইমরান রাজনীতিতে আসার পর নওয়াজ আবারও তাঁকে প্রস্তাব দেন।

ইমরানের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াজ প্রথমে তাকে নিজের দলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরে জাতীয় পরিষদে ২০টি আসন নিয়ে জোট করার প্রস্তাব দেন।

পি জে মীর দাবি করেন, নওয়াজ তাকে বলেছিলেন, ইমরানকে আসন দেওয়ার পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদও দিতে চান। তিনি ইমরানকে বিষয়টি জানালে ইমরান প্রথমে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে বৈঠক বাতিল করে দেন।

নিজের বইয়ে ইমরান লিখেছেন, তিনি নওয়াজকে বেনজির ভুট্টোর মতোই দুর্নীতিগ্রস্ত মনে করতেন। রাজনীতিতে আসার আগে দুজনই তার বন্ধু ছিলেন। কিন্তু তাদের দুর্নীতির বিরোধিতা করাই রাজনীতিতে আসার অন্যতম কারণ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মুশাররফের বিরুদ্ধে একসঙ্গে

১৯৯৭ সালের নির্বাচনে ইমরান খান ও তার দল প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নেয়। তবে ভরাডুবি হয়। অন্যদিকে নওয়াজ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হন।

কিন্তু ১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর জেনারেল পারভেজ মুশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নওয়াজ সরকারের পতন ঘটান।

নওয়াজ কারাবন্দি হয়ে পরে সৌদি আরবে নির্বাসিত হন। ইমরানও শুরুতে মুশাররফকে সমর্থন করেছিলেন। তবে ২০০২ সালের নির্বাচনের পর ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে মুশাররফের দূরত্ব বাড়ে।

২০০৭ সালে মুশাররফের আমলেই প্রথমবার কারাগারে যান ইমরান। কারামুক্তির পর তিনি লন্ডনে নওয়াজ শরীফের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তারা মুশাররফের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নেন।

২০০৭ সালের জুনে লন্ডনের ওই বৈঠক সম্পর্কে এএফপি জানিয়েছিল, ইমরান ও নওয়াজ মুশাররফের শাসনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।

পি জে মীর জানান, ম্যানচেস্টারে একটি সমাবেশেও তারা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। সেখানে ইমরান, নওয়াজ ও শাহবাজ শরীফ একে অপরের প্রশংসা করেছিলেন।

দুজন ‘অল পার্টিজ ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট’ নামের জোটেরও অংশ ছিলেন। তবে সেই জোট বেশিদিন টেকেনি।

বেনজির ভুট্টো পাকিস্তানে ফেরার পর নওয়াজও নির্বাসন শেষ করে দেশে ফেরেন। জোটটি আসন্ন নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরে নওয়াজ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

ইমরান তার বইয়ে অভিযোগ করেন, নওয়াজ তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।

তার দাবি, নওয়াজ একটি বৈঠক থেকে বের হয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে তিনি নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে যান।

রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু

২০০৮ সালের নির্বাচন বর্জন করায় ইমরান সেই জাতীয় পরিষদে ছিলেন না, যেখানে পিপিপি ও পিএমএল-এন প্রথমে জোট সরকার গঠন করেছিল। তবে সেই জোট বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।

পি জে মীরের মতে, পিএমএল-এন ও পিপিপির জোট এবং বেনজির ভুট্টোর হত্যাকাণ্ডের পর যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়, তার সুবিধা পান ইমরান।

২০১১ সালে লাহোরে বড় সমাবেশের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হন তিনি। তখন অনেক প্রতিষ্ঠিত রাজনীতিক তাঁর সঙ্গে যোগ দেন।

সোহেল ওয়ারাইচের মতে, শুরুতে পিটিআইয়ের মূল আক্রমণের লক্ষ্য ছিল পিপিপি, পিএমএল-এন নয়। তখনও ইমরান ও নওয়াজের মধ্যে কিছুটা ‘সফট কর্নার’ ছিল।

পি জে মীরও বলেন, ইমরান তখন মূলত আসিফ আলী জারদারির সমালোচনা করতেন। তাঁর ধারণা, ইমরানের মনে নওয়াজের প্রতি কিছুটা ইতিবাচক মনোভাব ছিল, কারণ হাসপাতালের জন্য জমি পেতে নওয়াজ তাঁকে সহায়তা করেছিলেন।

তবে সোহেল ওয়ারাইচের মতে, ইমরান যখন বুঝতে পারেন নওয়াজকে চ্যালেঞ্জ না করলে রাজনীতিতে নিজের জায়গা তৈরি করা কঠিন, তখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

২০১৩ সালের নির্বাচনের পর ইমরান ও নওয়াজের রাজনৈতিক সংঘাত আরো তীব্র হয়।

তবে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তখনও পুরোপুরি ভেঙে যায়নি। সোহেল ওয়ারাইচ বলেন, ২০১৩ সালের নির্বাচনের পর নওয়াজ হাসপাতালে গিয়ে ইমরানের খোঁজ নিয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর বানিগালায় ইমরানের বাড়িতেও গিয়েছিলেন।

কিন্তু সম্পর্ক আর এগোয়নি। দুজন যখন বুঝতে পারেন, ক্ষমতার লড়াইয়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী একে অপরেই, তখন বিরোধ আরও বাড়তে থাকে।

সোহেল ওয়ারাইচের ভাষায়, ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে রাজনৈতিক লক্ষ্যই প্রধান হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বক্তব্য কঠোর হয়, আচরণও কঠোর হয়।

পি জে মীর বলেন, রাজনীতির বাইরে ইমরান ও নওয়াজ দুজনই ভালো মানুষ। কিন্তু পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে খারাপ মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা রয়েছে।

দুজনেরই পতন

২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে নওয়াজ শরীফ দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যান। আর সেই সময় ইমরান খান প্রথমবারের মতো সেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ওঠেন, যেখানে একসময় নওয়াজ তাকে রাজনীতিতে আসার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই ইমরানের প্রধানমন্ত্রিত্বও শেষ হয়ে যায়।

ইমরান এর জন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়াকেও দায়ী করেন। এর আগে নওয়াজও একই সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।

এভাবেই দুই সাবেক বন্ধু আবারও একই রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসে দাঁড়ান—একসময় যারা একই সামরিক শাসকের বিরুদ্ধে ছিলেন, পরে তাঁরা একে অপরের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।

আবার কি মিত্র হতে পারেন?

পাকিস্তানের রাজনীতিতে পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের আবার মিত্র হয়ে ওঠার নজির আছে। নওয়াজ শরীফ ও বেনজির ভুট্টোও দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের পর ২০০৭ সালে ‘চার্টার অব ডেমোক্রেসি’তে সই করেছিলেন।

তাহলে ইমরান ও নওয়াজ কি আবারও এক হতে পারেন?

সোহেল ওয়ারাইচের ধারণা, এখন তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের জোটের সুযোগ নেই।

পি জে মীর অবশ্য মনে করেন, কোনো না কোনোভাবে তাদের মধ্যে সমঝোতা হতে পারে। তার মতে, এবার তাঁরা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে একসঙ্গে অবস্থান নিতে পারেন।

মীরের ভাষায়, ইমরান এমন মানুষ নন, যিনি সেনাবাহিনীকে নিজের ঊর্ধ্বে থাকতে দেবেন। নওয়াজ শরীফের চিন্তাভাবনাও একই রকম।

এএম

ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ

ইমরান খানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু

পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৮ সন্ত্রাসী নিহত

বিএসএফের গুলিতে দুই পাকিস্তানি নিহতের ঘটনায় ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব

পাকিস্তানে ভারত সমর্থিত ১১ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানে ভারতীয় মদতপুষ্ট ৭ সন্ত্রাসী নিহত

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ২২

সৌদি আরবকে রক্ষায় সহায়তার অঙ্গীকার পাকিস্তানের

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ৭