ইউরোপ রাশিয়ায় হামলা চালালে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের যুদ্ধ হবে এবং সেই যুদ্ধ খুবই সংক্ষিপ্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ। বুধবার রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবার্গ শহরে আন্তর্জাতিক যুব উৎসবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
লাভরভ বলেন, রাশিয়া বারবার স্পষ্ট করেছে, ইউরোপ বা পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালানোর কোনো ইচ্ছা মস্কোর নেই। ইউরোপও যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলে থাকে, তাহলে মস্কোর বিরুদ্ধে হামলা হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেবে।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া বারবার বলেছে, আমরা পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালাতে যাচ্ছি না এবং তা করার কোনো আগ্রহও আমাদের নেই। কিন্তু ইউরোপ যদি রুশ ফেডারেশনে হামলা চালায়, তাহলে এটি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন যুদ্ধ এবং তা হবে খুবই সংক্ষিপ্ত।’
লাভরভ বলেন, সংঘাত রাশিয়ার পদ্ধতি নয়। দেশটির নেতৃত্ব, এমনকি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও এ অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো অনেক আগেই রাশিয়াকে নিয়ন্ত্রণের পথ বেছে নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটোর ‘জোরপূর্বক’ সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউরোপীয় নেতাদের রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন লাভরভ। তার ভাষ্য, ব্রাসেলসের বর্তমান ইউরোপীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনে পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সেনা মোতায়েনকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ইউক্রেন সংঘাতের সমাধানে আলোচনায় বসতে মস্কো প্রস্তুত বলেও জানান লাভরভ। তিনি বলেন, আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে প্রস্তাবের অপেক্ষায় রয়েছে রাশিয়া। তবে এ বিষয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে মস্কো খুব বেশি আশাবাদী নয়।
আলোচনার স্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে লাভরভ বলেন, সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে যেকোনো স্থান বিবেচনা করা যেতে পারে। সার্বিয়াকেও সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাব্য তথ্যও রাশিয়া যাচাই করছে বলে জানান রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন লাভরভ। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সংলাপ হলেও এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ক্ষেত্রে তা দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি।
রাশিয়ার ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের সংসদীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে লাভরভ অভিযোগ করেন, চলমান নির্বাচনি প্রচারে রুশ ভোটারদের মতপ্রকাশের ওপর প্রভাব বিস্তারে পশ্চিমা দেশগুলোর বিশেষভাবে জোরালো চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
রাশিয়া-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে লাভরভ বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ইউরোপের সঙ্গে যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, মস্কো আর সেই অবস্থায় ফিরবে না। রাশিয়ার নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তিতেও যাবে না মস্কো।
এমএমআর