শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: জামায়াত এমপি

খুলনা ব্যুরো

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত: জামায়াত এমপি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাতক্ষীরা-২ আসনের এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। তা করতে ব্যর্থ হলে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত, পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণই নেবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, চাঁদাবাজি বন্ধ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। আগামী শনিবার এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, মহানগরী আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপি, এনসিপির মহানগর আহ্বায়ক আহম্মদ হামিম রাহাতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।

মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেন, খুলনার মানুষ মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। কখন কোথায় বোমা বিস্ফোরণ, গুলি কিংবা হত্যাকাণ্ড ঘটছে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাপন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিলে এ পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।

সরকারের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। সরকার গঠনের মাত্র সাত-আট মাসের মধ্যে কেন লংমার্চের মতো কর্মসূচি নিতে হচ্ছে, সেটিও সরকারের জন্য বড় একটি প্রশ্ন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব; এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকলে জনঅসন্তোষ আরো বাড়বে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা জানান, গণভোটে প্রাপ্ত গণরায়ের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি, জনদুর্ভোগ নিরসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ সাত দফা দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং দমন ও জননিরাপত্তার বিষয়গুলোও এখানে গুরুত্ব পাবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে নেতারা অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক কারবারিরা গ্রেপ্তারের পর সহজে জামিনে মুক্তি পেয়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি তুলে ধরলে পুলিশ জানিয়েছে—মামলা যথাযথভাবে প্রস্তুত করা এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আলামত উপস্থাপনে ঘাটতি থাকায় আসামিরা জামিন পেয়ে যান। এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান।

খুলনা সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মূল দায়িত্ব সরকারের। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সম্প্রতি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকার ব্যর্থ হলে এর দায় তাদেরই নিতে হবে। এসব দাবিতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে।

লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনার শিববাড়ী মোড় ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে দুটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, শিববাড়ীতে লক্ষাধিক এবং ফুলতলায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে।

খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, লংমার্চ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; এটি জনগণের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দাবি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় এ কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচি বাস্তবায়নে ১৭টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন ১ হাজার ২৬৬ জন স্বেচ্ছাসেবক। শনিবার সকাল ৭টায় ঢাকার বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সমাবেশের পর সকাল ৮টায় গাড়িবহর যাত্রা করবে। খুলনার শিববাড়ীতে সকাল ১১টায় এবং ফুলতলা বাসস্ট্যান্ডে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। পরে গাড়িবহর কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। খুলনার দুই পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন