‘আদিবাসী’ শব্দের রাজনীতি বন্ধে সমান কোটা-আয়কর চায় পিসিসিপি

‘আদিবাসী’ শব্দের রাজনীতি বন্ধে সমান কোটা-আয়কর চায় পিসিসিপি

পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা এবং বৈষম্যহীন আয়কর ব্যবস্থা চালুর দাবিতে বিক্ষোভ করেছে পার্বত্য ঢাকা মহানগর চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সমাবেশে বক্তারা এ দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

পিসিসিপি ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান।

সমাবেশে তিনি বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত বিভাগগুলোর নিয়োগে স্বচ্ছতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙালি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষায় পৃথক কোটার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হলেও পরবর্তী সময়ে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতি, ঢাকার সভাপতি এ এইচ এম ফারুক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের কতিপয় উপজাতির ‘আদিবাসী’ শব্দ ব্যবহারের পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও ভূ-রাজনৈতিক নীল নকশা রয়েছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে অন্তত ৫০ বার এ শব্দটি উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তীতে এ চুক্তির আলোকে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন-১৯৯৮, পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদ আইন-১৯৯৮ এবং পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন গঠন করা হয়েছে, যেখানে ‘উপজাতি’ শব্দটি আইনিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এ এইচ এম ফারুক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানকার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী জাতীয় পরিচয়ের অংশ। তবে ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।

স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ‘উপজাতি’ শব্দ ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের দাবি উত্থাপন করা হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পিসিসিপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আল আমিন বলেন, ঐতিহাসিক তথ্য ও বিভিন্ন গবেষণার ভিত্তিতে পার্বত্য অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে রাসেল মাহমুদ বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের পরিচয়-রাজনীতির বিষয়টি জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নীতির আলোকে এ বিষয়ে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—

১. ‘আদিবাসী’ শব্দের আড়ালে দেশভাগ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

২. পার্বত্য চট্টগ্রামের সব জাতি-গোষ্ঠীর (বাঙালিসহ) জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমান কোটা নিশ্চিত করা।

৩. পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী সব নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন ও সমান আয়কর ব্যবস্থা চালু করা।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন