স্মার্টফোন ব্যবহারে ১২টি ভুল

স্মার্টফোন ব্যবহারে ১২টি ভুল

আমরা প্রতিদিন নিজেদের অজান্তেই এমন কিছু ভুল করি, যা সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের হাতে আমাদের গোপন তথ্য তুলে দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে বিকাশ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি, ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া বা ব্ল্যাকমেইলের মতো ঘটনাগুলোর পেছনে বড় কারণ ব্যবহারকারীর অসাবধানতা। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ তথ্যের আলোকে প্রতিদিনের ১২টি ভুল অভ্যাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—

বিজ্ঞাপন

ফ্রি পাবলিক ওয়াই-ফাই

বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁ, বিমানবন্দর বা শপিং মলে ফ্রি ওয়াই-ফাই পেয়ে গেলে আমরা দিব্যি খুশি হই। সেখানে যুক্ত হয়েই আমরা ব্যাংকিং অ্যাপ খোলা কিংবা কেনাকাটা করা শুরু করে দিই। উন্মুক্ত এসব নেটওয়ার্কে হ্যাকাররা ওত পেতে থাকে। ‘ম্যান-ইন-দ্য-মিডল’ টেকনিক ব্যবহার করে একই ওয়াই-ফাইয়ে থাকা সাইবার অপরাধীরা আমাদের দেওয়া পাসওয়ার্ড ও পিন নম্বর খুব সহজেই দেখে নিতে পারে।

ফোন পানিতে পড়লে

বাস্তব জীবনে সবচেয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা হলো ফোন পানিতে ভিজলে চালের মধ্যে রেখে দেওয়া। চালের অতি সূক্ষ্ম ধুলাবালি ও গুঁড়া ফোনের হেডফোন জ্যাক, চার্জিং পোর্ট ও স্পিকারের ভেতরে গিয়ে আর্দ্রতার সঙ্গে মিশে আঠার মতো জমে যায়, যা ফোনটিকে স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দেয়। ফোন ভিজলে দ্রুত বন্ধ করে সুতি কাপড়ে মুছে এয়ারড্রায়ারে ঠান্ডা বাতাসে শুকানোই সঠিক উপায়।

পেছনের পকেটে ফোন রাখা

আমরা নিজেদের অজান্তেই মোবাইল প্যান্টের পেছনের পকেটে রেখে দিই। কেনাকাটা করা বা হাঁটার সময় পেছনের পকেটে ফোন রাখা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রথমত, অসাবধানতাবশত বসে পড়লে শরীরের ভারে ডিসপ্লে ভেঙে যেতে পারে বা বডি বাঁকা হয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভিড়ের মধ্যে পকেটমারদের জন্য এটি সবচেয়ে সহজ লক্ষ্য।

থার্ড পার্টি APK ইনস্টল

প্লে-স্টোরে পাওয়া যায় না এমন ‘আনলকড’ বা প্রিমিয়াম অ্যাপ বিনা মূল্যে পাওয়ার লোভে আমরা গুগল থেকে APK ফাইল নামিয়ে ইনস্টল করি (যেমন : মোড করা গেমিং অ্যাপ বা থার্ড-পার্টি মেসেঞ্জার)। এসব ফাইলের ভেতরে ক্ষতিকর ‘ট্রোজান’ বা ‘স্পাইওয়্যার’ লুকানো থাকে, যা আমাদের অজান্তেই ফোনের সব পাসওয়ার্ড চুরি করে নেয়।

সারারাত চার্জে রাখা

রাতে ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া আমাদের নিত্যদিনের অভ্যাস। যদিও আধুনিক ফোনে ফুল চার্জ হলে অটো-কাট অফ হয়, তবুও সারা রাত সকেটে যুক্ত থাকলে ফোনের ব্যাটারির ওপর হালকা চাপ ও তাপ তৈরি হতে থাকে। এই অভ্যাসে ব্যাটারির ডেসিমেল হেলথ দ্রুত নামতে থাকে।

অ্যাপ নামালেই ‘Allow’ চেপে দেওয়া

আমরা অনেক সময় ফ্লাশলাইট বা কন্টাক্ট, এডিটিং অ্যাপের জন্য কল হিস্ট্রি, লোকেশন বা মেসেজের অ্যাক্সেস দিয়ে দিই। অনেক সময় কিছু সন্দেহজনক অ্যাপ আমাদের পারমিশন নিয়ে ব্যাকগ্রাউন্ডে ব্যক্তিগত ছবি, কন্টাক্ট নম্বর বা গোপন মেসেজ তাদের সার্ভারে পাঠাতে থাকে। কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার পর পারমিশন দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখা উচিত অ্যাপের জন্য অ্যাক্সেস প্রয়োজন কি না!

বালিশের নিচে ফোন রেখে ঘুমানো

বালিশের নিচে ফোন রেখে চার্জ দিলে তা থেকে তৈরি হওয়া তাপ বের হতে পারে না, যার ফলে অতীতে একাধিক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া মাথার একদম কাছে ফোন রেখে ঘুমালে নোটিফিকেশনের আলো ও শব্দ আমাদের ‘মেলাটোনিন’ হরমোন উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটায়, যা গভীর ঘুম নষ্ট করে মানসিকভাবে ক্লান্ত রাখে।

সফটওয়্যার আপডেট ঝুলিয়ে রাখা

‘পরের বার করব’ ভেবে আমরা মাসজুড়ে ‘Update’ পপ-আপ এড়িয়ে চলি। অথচ প্রযুক্তি সংস্থাগুলো নতুন অ্যাপ আপডেটের সঙ্গে সঙ্গে পুরোনো নিরাপত্তাজনিত ছিদ্র বা ‘বাগ’ (Bug) বন্ধের সিকিউরিটি প্যাচ পাঠায়। আপডেট না দিলে হ্যাকাররা সেই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আমাদের ফোনে অনায়াসে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে দিতে পারে।

চার্জে থাকা অবস্থায় এডিটিং

চার্জ নেওয়ার সময় ফোনের ব্যাটারি এমনিতেই গরম হয়। ওই অবস্থায় ভারী গেম খেলা বা ভিডিও রেন্ডারিং করলে প্রসেসরের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। ফলে ফোন অতিরিক্ত তেতে ওঠে (Overheating), প্রসেসর দীর্ঘ মেয়াদে স্লো হয়ে যায় এবং মোবাইল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যাকআপ না রাখা

হঠাৎ কখনো ফোন হাত থেকে পড়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া, পানিতে ডুবে যাওয়া, কিংবা চুরি হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই আছে। ফোন চুরি বা নষ্ট হওয়ার চেয়েও বড় কষ্ট হলো বছরের পর বছর ধরে মোবাইলের ভেতরে জমানো ছবি, ভিডিও বা দরকারি ডকুমেন্টস চিরতরে হারিয়ে যাওয়া। তাই অটোমেটিক গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড ব্যাকআপ চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি যেন সংকটময় সময়েও তথ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।

নকল চার্জার ব্যবহার

অফিসে বা ভ্রমণের সময় নিজের মূল চার্জার ভুলে ফেলে গেলে আমরা অনেকেই দু-একশ টাকার সস্তা বা নিম্নমানের চার্জার কিনে ফোন চার্জ দিই। এতে ভোল্টেজ ওঠা-নামা করে ফোনের দামি মাদারবোর্ড পুড়ে যেতে পারে এবং ব্যাটারি ফুলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। সবসময় ব্র্যান্ডের অনুমোদিত চার্জার ও ভালো মানের কেব্‌ল ব্যবহার করা উচিত।

প্রখর তাপে ফোন রাখা

আমাদের দেশে চড়া রোদে বা বন্ধ গাড়ির ভেতরে ফোন রেখে দিলে তা দ্রুত গরম হয়ে যায়। বর্তমান স্মার্টফোনগুলোয় ‘লিথিয়াম-আয়ন’ ব্যাটারি থাকে, যা অতিরিক্ত তাপে রাসায়নিক সামঞ্জস্য হারিয়ে ফেলে। এতে ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমে যায় এবং স্থায়ী ক্ষতি হয়।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন