সাধারণভাবে ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন ছাড়িয়েছে। সে হিসাবে বর্তমানে ৭ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এতে অনেকটাই খোশ মেজাজে রয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
বাজার মনিটরিং ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে গত সোমবার খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, ‘দেশের খাদ্যশস্যের মজুত খুবই সন্তোষজনক। বর্তমানে সরকারের গুদামে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে, যা আপৎকালীন লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।’
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার নিয়মিতভাবে বাজার মনিটরিং করছে। চলমান ধান-চাল সংগ্রহের মাধ্যমে সরকারি মজুত প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে, ফলে চালের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এ মজুতের পরিমাণ আরো বাড়বে । গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।’
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া বলেন, ‘১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।’
খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রেজা মোহাম্মদ মহসিন আমার দেশকে বলেন, ‘খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। এছাড়াও সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করা হচ্ছে। ফলে মজুত আরো বাড়বে।’
খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ জুন পর্যন্ত চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সঙ্গে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।
উল্লিখিত মজুত ছাড়াও চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে । চলতি মাসের ১৭ জুন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন।
সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।
আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণেও দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগ চাল ৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন।
চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি। শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫ দশমিক ১২ হাজার মেট্টিক টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।