একদিকে বই-খাতা, স্কুল ড্রেস, সহপাঠীদের সঙ্গে খুনসুটি—সব মিলিয়ে জীবনের এক রঙিন অধ্যায় পার করছিল ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল্লাহ ছামীম। মাত্র ১৩ বছর বয়সেই সামনে ছিল সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায়। সবার প্রিয় সেই ছামীমকে হারিয়ে আজ স্তব্ধ তার পরিবার, শোকস্তব্ধ গ্রাম।
আব্দুল্লাহর গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি ইউনিয়নের মাঝিকান্দি গ্রামে। জীবনের নির্মম বাস্তবতা যেন একের পর এক আঘাত করে চলেছে এই পরিবাররে। সাতমাস আগে সৌদি আরবে কর্মরত অবস্থায় মারা যান আব্দুল্লাহর বাবা আবুল কালাম মাঝি। পিতার মৃত্যু কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই এবার সন্তান হারানোর শোকে পাথর মা জুলেখা বেগম।
মাইলস্টোন স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত আব্দুল্লাহ। পড়াশোনায় আগ্রহী, নম্র-ভদ্র আচরণে অল্পতেই সবার প্রিয় হয়ে উঠেছিল। পরিবারের তিন সন্তানের মধ্যে সবার ছোট হওয়ায় সে ছিল ভাইবোনদের আদরের কেন্দ্রবিন্দু। স্বজনরা জানান, স্কুল থেকে ফিরে সারাদিন মা’র সঙ্গে লেগে থাকত, বাবার ছবির সামনে বসে প্রার্থনাও করত প্রায়ই।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে গ্রামের বাড়ি মাঝিকান্দিতে আব্দুল্লাহর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ অশ্রুসিক্ত সহস্রাধিক মানুষ জানাজায় অংশ নেন। গোটা গ্রামে নেমে আসে শোকের ছায়া।
ছামিমের মামা সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগিনা ছিল এ বাড়িসহ এই এলাকার সবচেয়ে নম্র ও ভদ্র, তার মৃত্যুতে আমরা মানিয়ে নিতে পারছি না। ওর বাবা কিছু মাস আগে মারা গেলো আবার ওয়। কিভাবে এই শোক সইব আমরা।