বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে দোকানঘর উত্তোলনে বাধা দিয়ে পিটিয়ে পাঁচজনকে আহত করে প্রতিপক্ষরা।
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে গুরুতর আহত অবস্থায় সাইদুল ইসলাম সজীবকে (২৫) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। নিহত সাইদুল ইসলাম সজীব বরিশাল সরকারি কলেজ থেকে এ বছর অনার্স ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হন। আহত আবুল হোসেন খান (৬৫), তার স্ত্রী পিয়ারা বেগম (৫৫), হাসান আলী খান (৫৮) ও আয়শা বেগম (৫০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার সময় উপজেলার লোচনাবাদ মুনির উদ্দিন আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইদুল ইসলাম সজীবের বাবা আবুল হোসেন খান জানান, শনিবার সকালে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের লোচনাবাদ গ্রামে তাদের বসতবাড়ির জমিসংলগ্ন রেকর্ডীয় জমিতে একটি দোকানঘর উত্তোলনের কাজ শুরু করেন।
এ সময় পরিকল্পিতভাবে একই গ্রামের মৃত রুস্তম আলী খানের ছেলে মিলন খান ৮-১০ জন লোকসহ হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
হামলায় তার ছোট ছেলে সাইদুল ইসলাম সজীব রক্তাক্ত জখম হলে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়ে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। এছাড়া হামলায় তিনি, তার স্ত্রী, ভাই, ভাবিসহ চারজন আহত হয়েছেন।
এ ব্যাপারে আবুল হোসেন খান বাদী হয়ে থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলা নম্বর জি আর ৮৮/২৬।
এ ঘটনায় চার দিন পেরিয়ে গেলেও আসামিরা প্রকাশ্যে বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো পুলিশ আসামিদের পক্ষে একটি মিথ্যা মামলা রেকর্ড করেছে। এ নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজমান।