ভোলার দৌলতখান থানা-পুলিশ ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত রেজবি আক্তার ভোলা সরকারি কলেজের বাংলা বিষয়ের অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার চর খলিফা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলাকোপা গ্রামের সালাউদ্দিনের মেয়ে রেজবির সাথে সৌদিপ্রবাসী সুমনের প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে এক বছর আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। স্বামীর বাড়িতে গিয়ে তিনি ভবিষ্যতের সোনালী স্বপ্নের সুখের সংসার শুরু করার পাশাপাশি পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। প্রবাসী সুমন একই উপজেলার পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন চরপাতা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাতাব্বর বাড়ির জাহাঙ্গীরের ছেলে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল তিনটার দিকে এ ঘটনার পর থেকে তার স্বামীর বাড়ির শ্বশুর-শাশুড়ি বা আশপাশের কোনো লোককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পুলিশ রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে খালি ঘর থেকে প্রবাসী সুমনের স্ত্রীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত রেজবির মা রোজিনা আক্তার এ প্রতিনিধিকে জানান, মেধাবী শিক্ষার্থী রেজবি আক্তারের পরীক্ষার ফরম ফিলাপ চলছে। রবিবার তিনি ভোলা কলেজে গিয়েছিলেন। কম্পিউটারে সার্ভার সমস্যার কারণে ফরম ফিলাপ করতে পারেননি। ওর শাশুড়ি চান না যে ও পড়াশোনা করুক। পড়াশোনা এবং কলেজে যাওয়া-আসা নিয়ে ওর সাথে ওর শাশুড়ির দ্বন্দ্ব হয়। বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সাথেও অভিমান করে সে। পড়াশোনার জের ধরে রুমের ভেতর ফ্যানের সাথে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে।
মা রোজিনা আক্তার বলেন, "মেধাবী রেজবি আমার একমাত্র মেয়ে। আমার স্বামী ঢাকায় থাকেন। আমি আমার মেয়েকে বুকে জড়িয়ে নিতে চাই। আমি আমার মেয়েকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।" বুকফাটা আর্তনাদে বারবার এসব কথা বলে তিনি থানা চত্বরে মেয়ের মৃতদেহের সামনে কান্না করছিলেন।
দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি, তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দাস জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। তবে এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এসআর