পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় পরকীয়ার জেরে এক বৃদ্ধা শাশুড়িকে গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সন্দেহের তীর পুত্রবধূ ও কথিত প্রেমিক স্থানীয় এক বিএনপি নেতার দিকে।
নিহতের পরিবারের দাবি, পুত্রবধূ ও তার কথিত প্রেমিক পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জিয়ানগর থানা পুলিশ দুইজনকে তাদের হেফাজতে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮মে) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ৫ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নমিতা রানী পাল (৬০) ওই এলাকার বাসিন্দা রাধেশ্যাম চন্দ্র পালের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শ্যামল চন্দ্র পালের স্ত্রী বন্যা রানী পাল (৩২) দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার স্থানীয় বিএনপি নেতা কামাল পঞ্চায়েতের সাথে পরকীয়া করে আসছিল। বিষয়টি জানতে পেরে শাশুড়ি নমিতা রানী প্রতিবাদ করলে তাকে তারা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে পরিবার দাবি করছে।
নিহতের স্বজনরা জানান, লাশে একাধিক নখের আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে। গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাতের শাখা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং ঘরের দেয়ালেও রক্তের দাগ দেখা গেছে।
এসব আলামতের ভিত্তিতে পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক ধারণা, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের মেয়ে রঞ্জিতা ও নাতি-নাতনিরা অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের মা ও দিদাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে"।
নিহতের স্বামী রাধেশ্যাম চন্দ্র পাল জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘরে ছিলেন না। পরে এসে দেখেন ঘরের সিটকানি খোলা। এ অবস্থায় ঘরে ঢুকে দেখেন তার স্ত্রী মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এসময় তিনি চিৎকার করলে পেছনের দিক দিয়ে কামাল পঞ্চায়েত দৌড়ে পালিয়ে যায় বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও অভিযুক্ত বন্যা রানী পালের ফুফা বরগুনার কোরব এলাকার তাপস দেবনাথ (৪৪) ঘটনার সময় ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, তিনিও এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে বন্যা রানী পাল ও তাপস দেবনাথকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
হত্যার ঘটনা জানার জন্য অভিযুক্ত কামাল পঞ্চায়েতের ০১৭২১৬৫৩০৫৭ নম্বারে ফোন দিলেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায় বিধায় তার মন্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদ আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, কামাল আমাদের দলের কেউ না। দলে তার প্রাথমিক সদস্য পদ পর্যন্ত ও নেই। কেউ যদি বিএনপি'র নাম ভাঙ্গিয়ে চলে সে দায় দায়িত্ব তার আমাদের নয়।
জিয়ানগর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহব্বত খান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে আনা হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।