লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনায় চার চোরকে আটক নিয়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় রাস্তায় বাঁশসহ গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন দেয় তারা।
ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘিপাড় এলাকায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারীবাড়ির শাহ আলমের অটোরিকশাটি চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করেন এবং তাদের কাছ থেকে ব্যাটারি ছাড়া অটোরিকশা উদ্ধার করেন । পরে স্থানীয়রা ব্যাটারির জন্য আটক চার চোরকে পিটুনি দেন।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ব্যাটারি না পেলে তাদের ছাড়বে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এ সময় রায়পুর থানার পুলিশ সদস্য মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর, জাহিদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কের চৈতাইল্যা দিঘিপাড় এলাকায় অগ্নিসংযোগ করে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। ফলে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, চারজনকে আটকে রেখে পেটানোর খবর পেয়ে মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। আটক চারজনকে থানায় নিয়ে আসতে চাইলে ২০-৩০ জন এলাকাবাসী ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে এক এসআইসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আটক চার চোর থানা-পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। অটোরিকশা চুরির ঘটনায় মালিক মামলা দিলে মামলা নেব। আর পুলিশ আহতের ঘটনায়ও মামলা হবে। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।