হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

সীতাকুণ্ডে পুকুরে মৃত্যুর মিছিল, চার দিনে ঝরল ৫ শিশুর প্রাণ

উপজেলা প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় চার দিনের ব্যবধানে পুকুরের পানিতে ডুবে পাঁচ শিশুর মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ধারাবাহিক এসব দুর্ঘটনা গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অভিভাবকদের সচেতনতার ঘাটতিকে সামনে এনে দিয়েছে।

সোমবার বিকেলে উপজেলার বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের পূর্ব বহরপুর গ্রামে প্রবাসী আলমগীরের মেয়ে হুমায়রা (৬) বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে মারা যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, খেলার সময় সবার অগোচরে সে পুকুরে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে রোববার সকালে বাঁশবাড়িয়া এলাকায় পুকুরে ডুবে তাইফুল ইসলাম ইসবাত (৪) মারা যায়। শনিবার দুপুরে বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আরিজা বিনতে সোহেল (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। শুক্রবার বিকেলে কুমিরা ইউনিয়নের রহমতপুর এলাকায় রেললাইন সংলগ্ন কলোনিতে পুকুরে ডুবে প্রাণ হারায় আবদুল্লাহ (৪) ও সীমা আক্তার (৯)।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ বসতবাড়ির পাশেই অসংখ্য খোলা পুকুর ও জলাশয় থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। ফলে শিশুদের জন্য ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। খেলার ছলে শিশুদের জলাশয়ের ধারে চলে যাওয়া এবং অল্প সময়ের অসতর্কতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে এক থেকে দশ বছর বয়সী শিশুদের অকালমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বাড়ির পাশেই পুকুর, খাল বা ডোবা থাকায় এ ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অধিকাংশ দুর্ঘটনাই ঘটে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে, বাড়ির কাছাকাছি জলাশয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলতাফ হোসেন বলেন, “স্বল্প সময়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। গ্রামে গ্রামে সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো জরুরি।” তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে স্বাস্থ্য বিভাগ, সমাজসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। পাশাপাশি পুকুর ও ডোবার চারপাশে বেড়া দেওয়া এবং শিশুদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পারিবারিক সচেতনতা যথেষ্ট নয়, প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগও জরুরি। তারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাঁতার শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, গ্রামভিত্তিক সেফ ডে-কেয়ার ব্যবস্থা চালু এবং কমিউনিটি পর্যায়ে জলাশয় নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছেন।

এদিকে এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “পুলিশের কাজ হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনসচেতনতামূলক সভা করার মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতন করে তুললে এ ধরনের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।”

একাধিক শিশুমৃত্যুর পর এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টিকে জরুরি জননিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।

সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারকালে ৬৯ রোহিঙ্গা উদ্ধার

রাউজানের গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী নাছিরের জানাজা সম্পন্ন

কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ডে ৪ আসামির জবানবন্দি, ১ জন রিমান্ডে

পরশুরামে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ অবকাঠামো

নোয়াখালীতে মাটি খননের সময় মর্টার শেল উদ্ধার

দেবিদ্বারে মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়

মতলবে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

একসময় এই খালই ছিল বাঁচার ভরসা, এখন অভিশাপ

হাতিয়ায় বজ্রপাতে চা দোকানির মৃত্যু

নৌকায় বসা নিয়ে ঘুষিতে মৃত্যু, ২০ লাখে রফাদফার অভিযোগ