চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গ্রামের সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে আউশ ধান, আমনের বীজতলা, শাক-সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
উপজেলার কাটাছড়া, দুর্গাপুর, মিঠানালা, হিঙ্গুলী, খৈয়াছড়া, মঘাদিয়া ও ইছাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক গ্রামের ঘরবাড়িতে কোমরসমান পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও ঘরের চুলা পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রান্না সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শিশু খাদ্যের তীব্র সংকট। নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্লাবিত এলাকায় সীমিত পরিসরে শুকনো খাবার, খাবার স্যালাইন ও রান্না করা খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইসমাঈল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, টানা বর্ষণে আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তারা কাজ করছেন। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. ইসমাঈল বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। উপজেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, বন্যাকবলিত কয়েকটি এলাকা আমি পরিদর্শন করেছি। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। পানিবন্দি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হবে।
সার্বিক পরিস্থিতি তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যাতে দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পানি নেমে গেলে কৃষি, মৎস্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেডএম